আন্তর্জাতিক জাতীয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের সাবেকব্যাংক ব্যবস্থাপককে ৩২-৫৬ বছরের জেল

তিন বছর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের সাবেক শাখা ব্যবস্থাপককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মায়া সান্তোষ দেগুইতো নামের সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের আটটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১০ জানুয়ারি) দেশটির অর্থনৈতিক কেন্দ্র মেকাটি শহরের একটি আদালত এ রায় দিয়েছেন।

মায়া সান্তোষ দেগুইতোকে অর্থ পাচারের আটটি অভিযোগে ৩২-৫৬ বছরের জেল দেয়া হয়েছে। প্রতিটি অপরাধের জন্য দেয়া হয়েছে চার থেকে ৭ বছরের জেল। আর জরিমানা হিসেবে ১০৯ মার্কিন ডলার পরিশোধেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর ফলে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় এই প্রথমবারের মতো কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এর আগে বিষয়টি নিয়ে ২০১৬ সালের সিনেটের তদন্তের শুনানিতে দেগুইতো বলেন, তাকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে। আরসিবিসি ব্যাংকের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ হলেই কেবল অর্থপাচার করা সম্ভব।

তার আইনজীবী দিমেট্রিও কাস্টোডিও বলেন, তার মক্কেল রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। সুপ্রিমকোর্টের চূড়ান্ত রায় স্থগিত করে তিনি মুক্তই থাকবেন।

বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এ মামলা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। ডিগুইটোর জন্য এটি একেবারে সাময়িক বিপত্তি।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। বিশ্বব্যাপী আলোড়ন ফেলেছিল এ ঘটনাটি। দুর্বৃত্তরা সুইফট পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে করা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই অর্থ চুরি করে। আর সেই অর্থ সোজা চলে আসে ম্যানিলার রিজাল কমার্সিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনে যার প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন মায়া।

পরে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে চুরি যাওয়া সেই অর্থ ফিলিপাইনের ক্যাসিনো ইন্ড্রাস্ট্রির মাধ্যমে গায়েব করে দেয়া হয়। খোয়া যাওয়া রিজার্ভের অর্থের দেড় কোটি ডলার ফেরত এলেও বাকি অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তৎপরতা চালানো হলেও এখনও তেমন কোনো অগ্রগতি নেই।

বিষয়টি নিয়ে ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম বলেন, আরসিবিসি ব্যাংকের আরও ছয় কর্মকর্তা রয়েছেন, তাদের মামলা দেশটির অ্যান্টি মানিলন্ডারিং কাউন্সিলের মাধ্যমে বিচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশা করি, যা বিচারকার্যকে আরও সহজ করে দেবে।