রাজনীতি

বিএনপি দোটানায়

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হিসাব মেলাতে ব্যস্ত বিএনপি। মার্চে অনুষ্ঠেয় এই ভোটে যাওয়ার পক্ষে দলের অনেকের মত থাকলেও পূর্ব অভিজ্ঞতায় বর্জনের চিন্তাও রয়েছে অনেকের। এদিকে এরই মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নিজেদের আগ্রহের কথা জানিয়ে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদও সাংবাদিকদের জানিয়ে  দিয়েছেন মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে ধাপে ধাপে সারা দেশে পঞ্চম উপজেলা পরিষদের নির্বাচন শুরু হতে যাচ্ছে।

৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলা বিএনপির একটি অংশ বলছে, উপজেলা নির্বাচনে গেলেও একই পরিণতি হবে। অন্য একটি পক্ষ বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে না গেলে নেতাকর্মীদের ধরে রাখা কঠিন হবে।

যদিও এর আগে দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও বিএনপি পরে নির্দলীয় উপজেলা ভোটে অংশ নিয়েছিল। প্রথম তিন পর্বে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ীদের মধ্যে সংখ্যায় বিএনপি এগিয়ে ছিল। তবে পরের তিন পর্বে তাদের ছাপিয়ে যায় আওয়ামী লীগ সমর্থকরা।

উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, নির্বাচনে গেলেও জেলে যেতে হয়, না গেলেও জেলে যেতে হয়। বিজয়ী হলে বরখাস্ত করা হয়। ফলে নির্বাচিত হলেও কাজ করতে পারেননি জনপ্রতিনিধিরা। তাহলে সেই নির্বাচনে গিয়ে লাভ কী? এবার জাতীয় নির্বাচনে যে বিশাল নাটক হয়ে গেল, এরপর কোনো নির্বাচনে যাওয়ার সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না। তবে দলীয় ফোরামে এ বিষয়ে বিচ্ছিন্ন আলোচনা হচ্ছে। শিগগিরই নীতিনির্ধারকরা বসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবেন।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বলেন, জাতীয় সংলাপে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। তবে আওয়ামী লীগের এইচ টি ইমাম তো বলেই দিয়েছেন, সামনের সব নির্বাচন এভাবেই হবে। এভাবে ইলেকশন হলে সে ক্ষেত্রে যাওয়ার প্রয়াজন আছে কি না, সেটাও সংলাপে আলোচনা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে-বিপক্ষে মত আসছে। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, এখনো জানি না। তবে আমার ব্যক্তিগত মতামত হলো নির্বাচনে যাওয়া-না যাওয়া সমান জেনেও আমাদের অংশ নেওয়া উচিত। এতে বিশ^বাসীর সামনে সরকারের মুখোশ তুলে ধরা যাবে। নির্বাচনের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের একটু চাঙা রাখার সুযোগ আছে বলেও মনে করেন এই নেতা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, এখন আমরা জাতীয় নির্বাচনের অনিয়ম, কারচুপির বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছি। এখনো উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যেহেতু হাতে সময় আছে, সে ক্ষেত্রে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আর কোনো নির্বাচনে এতটা খারাপ ফল হয়নি বিএনপির। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে সরকার আমাদের অবস্থা দুর্বল করেছে। তবে দলের নীতিনির্ধারণেও দূর্বলতা ছিল। তিনি বলেন, রাজনীতি এক-দুই দিনের না। রাজনীতি লম্বা সময়ের। অনেক সময় দেখা যায়, বিশ বছরও ক্ষমতায় আছে কোনো সরকার। তারপরও হতাশ হয়নি বলেই অন্য দল টিকে থাকে। আওয়ামী লীগও ২১ বছর ক্ষমতায় ছিল না। তারা তো ‘অফ হয়ে যায়নি’। সম্পাদনা  : আনিসুর রহমান তপন