খেলাধুলা

রংপুর রাইডার্স,শেষ বলটি পর্যন্ত লড়াই করে গেল

স্পোর্টস ডেস্ক: এই না হলে বিপিএল ম্যাচ! জয়ের জন্য শেষ উইকেট নিয়ে শেষ বলটি পর্যন্ত লড়াই করে গেল রংপুর রাইডার্স। সাকিব আল হাসানের দলকে জয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হলো শেষ বলটি পর্যন্ত। এই ম্যাচ এমনিতেই অনেকদিন মনে থাকবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। রাসেল-পোলার্ডের ক্যাচ, আল ইসলামের হ্যাটট্রিক, আল্ট্রা এজের ব্যবহার, গ্যালারিভর্তি দর্শক- আরও কত কী…। রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ২ রানে অসাধারণ জয় তুলে শতভাগ জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল ঢাকা ডায়নামাইটস।

বড় টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে ধাক্কা খায় রংপুর রাইডার্স। শুভাগত হোমের বলে একবার রিভিউ নিয়ে বেঁচে গেলেও আন্দ্রে রাসেল এবং কায়রন পোলার্ডের অবিশ্বাস্য ক্যাচে পরিণত হত ‘দানব’ ক্রিস গেইল। নিশ্চিত ছক্কা হতে যাওয়া বলটিকে বাজপাখির মতো উড়াল দিয়ে পোলার্ডের হাতে পাঠিয়ে দেন রাসেল। তাদের যুগ্ম ক্যাচে ৯ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরেন গেইল। ৬ রানের ব্যবধানে আরেক ওপেনার মেহেদী মারুফ (১০) ফিরলে চাপে পড়ে রংপুর। দলকে এই বিপদ থেকে উদ্ধার করেন রাইলি রুশো এবং মোহাম্মদ মিঠুন।

২৯ বলে ফিফটি তুলে নেন রুশো। তার বিধ্বংসী ব্যাটে এগিয়ে যেতে থাকে রংপুর রাইডার্স। রুশোকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে যান মোহাম্মদ মিঠুন। ৪৪ বলে ৮ চার এবং ৪ ছক্কায় ৮৩ রান করা রুশোকে আল ইসলাম আউট করলে ভাঙে ১২১ রানের অসাধারণ জুটি। রংপুর যখন জয়ের অনেকটাই কাছে; তখনই ছন্দপতন! হ্যাটট্রিক করে বসেন আল ইসলাম। পরপর তিন বলে তার শিকার হন মোহাম্মদ মিঠুন (৩৫ বলে ৪৯), অধিনায়ক মাশরাফি (০) এবং ফরহাদ রেজা (০)। এটা চলতি বিপিএলের প্রথম হ্যাটট্রিক।এই ধাক্কায় বিপদে পড়ে যায় রংপুর রাইডার্স। সুনিল নারাইনকে ছক্কা মারতে গিয়ে আন্দ্রে রাসেলের হাতে ধরা পড়েন সোহাগ গাজী (০)। নারাইনকে একটি ছক্কা মেরে বোল্ড হয়ে যান ৮ বলে ১৩ রান করা বেনি হাওয়েল। শেষ হয়ে যায় রংপুরের আশা। পরপর দুটি চার মেরে ম্যাচ আবারও জমিয়ে তুলেন শফিউল। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৪ রান। কিন্তু আল ইসলামের শেষ বলে শফিউল সেই হিসাব মেলাতে পারেননি। ঢাকা ডায়নামাইটস জয় পায় ২ রানে।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৮৩ রান তোলে ঢাকা ডায়নামাইটস। যদিও শুরুতে দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে পড়েছিল তারা। দলীয় ৯ রানে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা হজরতুল্লাহ জাজাইকে (১) বোল্ড করে দেন সোহাগ গাজী। ১০ রানের ব্যবধানে দুই বাউন্ডারি দিয়ে রানের খাতা খোলা অপর ওপেনার সুনিল নারাইনকে রবি বোপারার ক্যাচে পরিণত করেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

১৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় ঢাকা। ৮ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ১৮ রানের ঝড় তুলেছিলেন রনি তালুকদার। তাকে হাওয়েলের তালুবন্দি করেন সোহাগ গাজী। মিজানুর রহমানকে (১৫) হাওয়েল এলবিডাব্লিউ করে দেন। এরপরেই অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের সঙ্গে জুটি গড়ে বিধ্বংসী ব্যাটিং শুরু করেন কায়রন পোলার্ড। এই জুটিতেই এগিয়ে যায় ঢাকা ডায়নামাইটস।

২০ বলে হাফ-সেঞ্চুরি পূরণ করেন পোলার্ড। ২৬ বলে ৫ বাউন্ডারি এবং ৪ ওভার বাউন্ডারিতে ৬২ রান করা এই ক্যারিবীয়কে থামান হাওয়েল। ৩৭ বলে ৩৬ করা সাকিব শিকার হন ফরহাদ রেজার। শফিউলের শিকার হওয়ার আগে ১৩ বলের ২৩ রানের ঝড় তোলেন আরেক ক্যারিবিয়ান আন্দ্রে রাসেল। পরের দুই ব্যাটসম্যান শুভাগত হোম (৩) এবং নুরুল হাসানও (৪) শিকার হন শফিউলের। এই পেসার তুলে নেন ৩ উইকেট।