খেলাধুলা

বিপিএল কাঁপাচ্ছে বাংলাদেশি ফাস্ট বোলাররা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বিপিএলের এখনো পর্যন্ত নিজেদেরকে সেভাবে মেরে ধরতে পারেনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তবে বিপিএলে মান রেখেছে বাংলাদেশি বোলাররা। দেশি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল মাশরাফি বিন মর্তুজা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অত্যন্ত সক্রিয় থেকে নড়াইলের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়ানো এবং বাড়ি-বাড়ি নির্বাচনি প্রচার শেষে বিপুল ভোটে বিজয়ী মাশরাফি ‘এমপি’ তকমা গায়ে মেখে মাঠে নেমেও বল হাতে ঠিক আগের মতই স্বপ্রতিভ, উজ্জ্বল ও কার্যকর। এখন পর্যন্ত বিপিএলে উইকেট শিকারে সবার ওপরে মাশরাফি বিন মর্তুজা।

রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক এখন পর্যন্ত ৫ খেলায় ২০ ওভার বোলিং করে পেয়েছেন ১০ উইকেট। সেরা বোলিং ৪/১১, ওভার পিছু রান খরচা ৫.৭০ করে। ৯ উইকেট শিকার করে যৌথভাবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন দুজন- চিটাগাং ভইকিংসের ৩৪ বছর বয়সী দক্ষিণ আফ্রিকান ফাস্ট মিডিয়াম বোলার রবি ফ্রাইলিঙ্ক আর খুলনা টাইটান্সের পেসার শফিউল ।

ফ্রাইলিঙ্কের সেরা বোলিং ফিগার ৪/১৪ আর শফিউলের সেরা ম্যাচ ফিগার ৩/৩৫। মাশরাফির চেয়ে একটু পিছনে থাকলেও মোটামুটি ধারাবাহিকভাবে ভাল বোলিং করেছেন সাকিব আল হাসানও। একক ভাবে না হলেও ঢাকা ডায়নামাইটস অধিনায়ক ও বাঁহাতি স্পিনার সাকিব, সিলেট সিক্সার্সের তাসকিন আহমেদ আর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সাইফউদ্দীন প্রত্যেকে ৭ উইকেট করে পেয়ে যৌথভাবে উইকেট প্রাপ্তিতে তিন নম্বরে।

রংপুর রাইডার্সের ফরহাদ রেজা ও চিটাগাং ভাইকিংসের খালেদ আহমেদের সাথে সমান ৬ উইকেট করে পেয়ে উইকেট প্রাপ্তিতে যৌথভাবে চার নম্বরে। এর পর পরই আছেন ঢাকার তিন অফস্পিনার সুনিল নারিন, শুভাগত হোম আর আলিস আল ইসলাম এবং কুমিল্লার লেগস্পিনার শহীদ আফ্রিদি। এই চার স্পিনারও সমান ৫ উইকেট করে দখল করেছেন।

তবে সে তুলনায় অনুজ্জ্বল কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ। জাতীয় দলে জায়গা করে নেয়া দুই পেসার আবু হায়দার রনি, আবু জায়েদ রাহি, অফস্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ এবং বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল অপুও তুলনামূলক পিছিয়ে।

এদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মিরাজের। রাজশাহী কিংসকে নেতৃত্ব দেয়া মিরাজ ব্যাট হাতে বেশ নজর কাড়ছেন। নিয়মিত রানও করছেন। কিন্তু তার যেটা মূল কাজ, সেই বোলিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি। চার খেলায় উইকেট পেয়েছেন মাত্র দুটি। প্রায় একই অবস্থা মোস্তাফিজের। রাজশাহী কিংসের পক্ষে খেলা বাঁহাতি মোস্তাফিজের ঝুলিতে এখন পর্যন্ত জমা পড়েছে মাত্র ৩ উইকেট ( চার খেলায়)।

অন্যদিকে বাঁহাতি রংপুর রাইডার্সের বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল অপুর উইকেট সংখ্যা ৪ (পাঁচ খেলায়)। চিটাগাং ভাইকিংসের হয়ে খেলা পেসার আবু জায়েদ রাহিরও উইকেট ৪ টি (পাঁচ খেলায়)। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পক্ষে সব কয়টা ম্যাচ খেলা বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনিও পেয়েছেন তিন উইকেট।

এছাড়া দুই বাঁহাতি তাইজুল ইসলাম আর সানজামুল ইসলামও তেমন সুবিধা করতে পারেননি। খুলনার পক্ষে খেলা তাইজুল আর চিটাগাং কিংসের সানজামুল দুজনই চার খেলায় মাত্র ২ উইকেট করে পেয়েছেন। জাতীয় দলের বাইরে থাকাদের মধ্যে আরাফাত সানি (চার খেলায় ৩) , পেসার মোহাম্মদ শহিদ (তিন খেলায় ২) আর পেসার আল আমিন হোসেন (তিন খেলায় ৩), অফস্পিনার সোহাগ গাজী (পাঁচ খেলায় ৩) এবং কামরুল ইসলাম রাব্বির (এক খেলায় ২) কেউই ভাল বোলিং করতে পারেননি।

বোলিং অ্যাকশন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় তাকে নিয়ে কথা বার্তা কম, তবে উইকেট প্রাপ্তির মানদণ্ডে নতুন বোলারদের মধ্যে ঢাকার অফস্পিনার আলিস আল ইসলামই প্রথম পর্বে নজর কেড়েছেন। জীবনের প্রথম খেলতে নেমে চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে অনবদ্য হ্যাটট্রিকও করেছেন রাজধানীর অদুরে সাভারের বলিয়ারপুরের এ ২৩ বছর বয়সী অফস্পিনার। ২ ম্যাচে শিকার করেছেন ৫টি উইকেট।