খেলাধুলা

বড় চমকে ফাইনালের লক্ষ্যে ১১ সদস্যের দল ঘোষণা টাইগারদের

জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ত্রিদেশীয় সিরিজের ষষ্ঠ ম্যাচে বুধবার (১৫ মে) আয়ারল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সহজ এই জয়ের পেছনে মূল অবদান ছিল আবু জায়েদ চৌধুরী রাহীর, ৫ উইকেট শিকার করে যিনি পেয়েছেন ‘ম্যান অব দ্যা ম্যাচ’ খেতাব।

এছাড়া ব্যাট হাতে বরাবরের মত অবদান রেখেছে টপ অর্ডার। তামিম ইকবাল, লিটন দাস ও সাকিব আল হাসানের ব্যাট থেকে এসেছে ফিফটি। ম্যাচ শেষে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা সবাইকে কৃতিত্ব দেওয়ার পাশাপাশি জানান, টানা তিনটি জয়ের ফলে ফাইনালে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে নামবে বাংলাদেশ।

ডাবলিনের ক্লনটার্ফের উইকেটটি ব্যাটিং বান্ধব ছিল জানিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আজকের উইকেটে ব্যাট করা সহজই ছিল। ৩০০ রানও এখানে তাড়া করার জন্য সহজ। আমরা বোলিংও ভালো করেছি। ওদের ৩০০ রানের মধ্যে রাখতে পেরেছি।’

বোলার ও ব্যাটসম্যানদের স্তুতি গেয়ে মাশরাফি বলেন, ‘রাহী উইকেট পেয়েছে, দারুণ করেছে। সাইফউদ্দিনও ভালো করেছে। রুবেল দলে ফিরে ভালো করেছে। ব্যাট হাতেও আমরা ভালো করেছি, বিশেষ করে টপ অর্ডার।’

মাশরাফি বলেন, ‘টুর্নামেন্টে একটানা তিনটা জয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়েই ফাইনাল খেলতে যাচ্ছি। উইন্ডিজের বিপক্ষে ফাইনাল ম্যাচটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ঐ ম্যাচটিতেও আমাদের ভালো খেলতে হবে।’

আগামী ১৭ মে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল ম্যাচ। এই ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ উইন্ডিজ, যাদের এই টুর্নামেন্টেই দুইবার হেসেখেলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সেই সাথে এই ম্যাচের আত্মবিশ্বাস ফাইনালের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেই রাখছে এগিয়ে।

আয়ারল্যান্ডের করা ২৯৩ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ সহজ জয়ের পথে। তবে দুঃখের সংবাদ হল ইনজুরিতে পড়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এদিন সাকিব ৫০ রান করে ইনজুরিতে পড়ে রিটার্ড হার্ড হয়ে মাঠ ছাড়ন।

তবে সাকিবের এই চোট বাংলাদেশ দল ও সমর্থকদের কপালে এনে দিয়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। ধারণা করা হচ্ছে, তার এই চোটটি সাইড স্ট্রেইন। সাইড স্ট্রেইন হয়ে থাকলে এই চোট সেরে ওঠার জন্য খুব বেশি সময় লাগার কথা নয়। তবে টিম ম্যানেজমেন্টের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগ পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না কিছুই।

ম্যাচে বাংলাদেশের ইনিংসের ৩৬তম ওভারে ব্যাট করার সময় হঠাৎ ব্যথা অনুভব করলে মাটিতে শুয়ে পড়েন সাকিব। সাথে সাথে মাঠে প্রবেশ করেন টাইগারদের ফিজিও থিহান চন্দ্রমোহন। ফিজিওর শুশ্রূষায় খানিক পর সাকিব উঠে দাঁড়ান এবং আবারো ব্যাটিং শুরু করেন।

তবে পরের ওভারে অর্ধ-শতক পূর্ণ করার পর মাঠ ছেড়ে চলে যান সাকিব। পরবর্তীতে জানা যায়, অকস্মাৎ আবির্ভূত এই চোটের পর ঝুঁকি এড়াতেই রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

যদিও সাকিবের এই চোটের ধরন ‘গুরুতর’ নয়। টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সাকিবের এই চোট গুরুতর নয় বলেই প্রত্যাশা করছেন ফিজিও ও টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সাকিবের চোট নিরীক্ষার পরই বোঝা যাবে, পুরো ফিট হয়ে উঠতে টাইগার সহ-অধিনায়কের কতটুকু সময় লাগবে। তার আগ পর্যন্ত সাকিবকে ফাইনাল ম্যাচে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা একটু হলেও থাকছে।

এদিকে সাকিব যদি ইনজুরিতে থাকে তাহলে সাকিবের পরিবর্তে তিন নম্বর পজিশনে দেখা যাবে সৌম্য সরকারকে আর তামিমের সাথে লিটন দাসকে। অন্যদিনে মোসাদ্দেকের পরিবর্তে দলে ফিরবেন মিরাজ রাহীর পরিবর্তে মুস্তাফিজ সুতরাং বলা চলে মোটামুটি ৩ থেকে ৪ টি পরিবর্তন নিয়ে আগামীকাল ফাইনালে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।