অন্যান্য

স্পেন যাওয়ার পথে সাগরে ডুবে দুই বাংলাদেশি তরুণের মুত্যু

আবু আশরাফ ও শাহীন আহমদ রেদওয়ান। বয়সে দু’জনই তরুণ। চোখে ছিল জীবন সাজানোর রঙিন স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন ছুঁতে স্পেন ছিল তাদের গন্তব্য। কিন্তু স্বপ্নের দেশে পৌঁছানোর পথে সাগরে সলিল সমাধি ঘটে তাদের। জীবিত নয়, তাদের নিথর দেহ পৌঁছায় স্পেনে।

নিহতরা হলেন- সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার অলংকারী ইউনিয়নের পেছি খুরমা (বড়বাড়ী) গ্রামের আশিক মিয়ার ছেলে আবু আশরাফ (১৯) ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার কামালবাজারের পুরানগাঁও গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে শাহীন আহমদ রেদওয়ান (১৮)।
php glass

গত ২৫ নভেম্বর মরক্কো থেকে সাগরপথে স্পেনে যাওয়ার পথে নৌকাডুবে এ দুই তরুণসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়।
ksrm

স্থানীয় মোল্লারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মকন মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, ক’দিন আগে বশির মিয়া দোয়া চেয়ে বলেছিলেন তার ছেলে মরক্কো থেকে স্পেনের পথে যাত্রা করছে।

শাহীনের প্রতিবেশী মোল্লারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল করিম বাংলানিউজকে বলেন, ওরা দু’জনে বছর খানেক আগে স্পেন যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আলজেরিয়া যায়। সেখান থেকে মরক্কো পৌঁছায়। নিহত শাহীন তার ছেলের ক্লাস ফ্রেন্ড ছিল। ২০১৭ সালে তারা একই সঙ্গে কামালবাজার হাজি রাশিদ আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে। একই স্কুল থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি পাস করে আশরাফ।

তিনি বলেন, গত ২৫ নভেম্বর সবশেষ শাহীন ও আশরাফ ফোনে তার পরিবারকে জানায় তারা তিনবার সুযোগ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছে। এবার তারা সফল হবে! কিন্তু সাগরে নৌকাডুবিতে তাদের মারা যাওয়ার খবর শোনা যায়।

এ দু’জনের পরিবার সূত্র জানায়, প্রায় বছরখানেক আগে স্পেন যাওয়ার জন্য ১৫ লাখ টাকায় দালালের সঙ্গে চুক্তি করে প্রথমে আলজেরিয়া যান আবু আশরাফ ও শাহীন। মৃত্যুর ২০ দিন আগে মরক্কো পৌঁছান। সেখান থেকে ২৫ নভেম্বর সাগরপথে স্পেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিবারের কাছে জানান এবং ইমোতে অডিওবার্তাও পাঠান। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

গত মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা নিহত আশরাফের খালাতো ভাই মোবাইল ফোনে দেশে থাকা স্বজনদের দুর্ঘটনার খবর জানিয়ে বলেন, মরক্কো থেকে ট্রলারে করে সাগর পাড়ি দিয়ে স্পেন যাওয়ার পথে আবু আশরাফদের বহনকারী নৌকাটি ডুবে যায়।

বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুরে স্পেনে থাকা এক আত্মীয় মোবাইল ফোনে পরিবারকে আবু আশরাফের মৃত্যুর খবর দেন। তার মরদেহ স্পেনের মেরিলা শহরের একটি হাসপাতালে রয়েছে। তবে শাহীনের খোঁজ মেলেনি।

এদিকে, দুই তরুণের পরিবারে শোকের মাতম চলছে। সন্তান হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার মা-বাবা, ভাই-বোন ও স্বজনরা।

এরআগে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার জাকির হোসেন ও জালাল উদ্দীন নামে আরও দুই তরুণ মরক্কো থেকে স্পেনে যাওয়ার পথে ট্রলার ডুবে মারা যান।

বাংলাদেশ সময়: ০৫৩০ ঘণ্টা, নভেম্বর ৩০, ২০১৯

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy