খেলাধুলা

আর্জেন্টিনা কী পারবে বিশ্বকাপ জয় করতে?

স্পোর্টস ডেস্ক: ম্যানুয়েল লানজিনি ইঞ্জুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর তার পরিবর্তে রিভার প্লেটের ৩২ বছর বয়সী মিডফিল্ডার এনজো পেরেজকে দলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। আর এর মাধ্যমেই একটি রেকর্ড করে ফেললো লিওনেল মেসিদের দল। এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে ‘বুড়ো’ দলের তকমা পেয়ে গেছে হোর্হে সাম্পাওলির শিষ্যরা। আর্জেন্টিনা কী পারবে বিশ্বকাপ জয় করতে?

লানজিনির পরিবর্তে পেরেজকে নেয়ার ফলে রাশিয়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে বয়স্ক স্কোয়াড হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনাই। এ পরিবর্তনের ফলে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দের গড় বয়স দাঁড়ালো ২৯ বছর ২০৫ দিন। এবারের বিশ্বকাপে এতো বয়সের গড় আর কোনো দলেরই নেই। মাত্র ২দিন পিছিয়ে থেকে, ২৯ বছর ২০৩ দিনের গড় নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে কোস্টারিকা।

২০১০ সালে ১৯তম বিশ্বকাপে ফ্যাবিও ক্যানাভারোর বয়স ছিল ৩৬, জিয়ানলুইজি বুফোনের ৩২, জিয়ানলুকা জামব্রোত্তার ৩৩, ফ্যাবিও গ্রোসোর৩২। মাউরো কামোরানেসির ৩৩, জেনারো গাত্তুসোর ৩২…নাহ্, মার্সেলো লিপ্পির ঘোড়াগুলোতো বুড়ো হয়ে গেছে!

লিপ্পিকে প্রশ্নটা করলে বকসাদা চুলের ভদ্রলোকের ঠোঁটে বিদ্রূপের হাসি দেখতে পাবেন।

২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলটার বেশির ভাগ খেলোয়াড় ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে বলে ইতালিকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল যারা, তাদের হিসাবে গরমিল ছিল। বিশ্বকাপে বুড়ো হাড়ের ভেলকি দেখিয়ে শিরোপা জয় করেছিল দলটি।

সেই সময় ইতালি কোচের কথায় যুক্তির ধারটাও ছিল তীক্ষ্ম, ‘পুরো মৌসুম ধরে খেলতে হলে আমি অন্য রকম একটা দলই বেছে নিতাম। কিন্তু আমরা (বিশ্বকাপে) মাত্র এক মাসের জন্য খেলব। তাই কোনো সমস্যা হবে না। খেলোয়াড়ের মান শুধু বয়স আর টেকনিকের ওপর নির্ভর করে না। প্রাণপ্রাচুর্য লাগে, অভিজ্ঞতা থাকতে হয়, ক্যারিশমা, বিচক্ষণতা, আন্তর্জাতিক ম্যাচে খেলার অভিজ্ঞতা…এসবও লাগে। আমরা এক মাসে ছয় কি সাতটা ম্যাচ খেলব। তাই খেলোয়াড়দের বয়স ২৪ হতে হবে এমন কোনো কথা নেই।’

ইউরো ২০০৮-এর সেমিফাইনালে যেতে ব্যর্থ, ২০০৯ কনফেডারেশনস কাপে গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়া—ইতালি দলটাকে সমর্থকদের হাহাকার উঠে গিয়েছিল একসময়। বুড়োদের বাদ দিয়ে দলে নতুন খেলোয়াড়দের নেওয়ার জন্য শোরগোল পড়ে গিয়েছিল ইতালিতে। ইউরো-ব্যর্থতার পর আবারও দলের ভার নেওয়া গত বিশ্বকাপজয়ী কোচ এসবে কান দেননি। বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকেই (৭ জয়, ৩ ড্র) বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছিল ইতালি।

১৯৮২ সাল। বিশ্বকাপের বছর। আবারো ম্যাচ পাতানো স্ক্যান্ডালে জর্জরিত ইতালিয়ান ফুটবল। এদিকে বিশ্বকাপ ও চলে এসেছে। দলের অবস্থাও খুব একটা সন্তোষজনক নয়। দলের অধিনায়কত্ব দেয়া হল দলের গোলকিপার এবং সবচেয়ে বুড়ো খেলোয়াড়টিকে। ঐ বুড়োর অধিনায়কত্বেই ৪৪ বছর পর বিশ্বকাপ জিতে বাড়ি ফিরল ইতালি।

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার অবস্থাও ইতালির মতো। বয়সের গড়ই বলে দিচ্ছে, এবারের বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতার কোনো কমতি হবে না লা আলবিসেলেস্তেদের। ইতালির ‘বুড়ো হাঁড়ের ভেলকি’- বলে বিশ্বকাপে একটা কথা আছে। সেই ভেলকি কী তবে দলের তরুণদের নিয়ে মেসি, মাচেরানো ও হিগুয়াইনরা দেখাতে পারবেন! সে জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত!

আরও পড়ুন

হ্যারি কেইন,এক মাসের জন্য মাঠের বাইরে

Syed Hasibul

হ্যামিল্টন মাসাকাদজা অাউট। জিম্বাবুয়ের তৃতীয় উইকেটের পতন

হ্যাপীর কারণে যেভাবে বদলে গেল রুবেলের ক্যারিয়ার!

হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করলেন মেসি। দেখুন আজকের ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকের ভিডিও

সোহাগ হোসেন

হ্যাটট্রিক করলো চেলসি

Syed Hasibul

হ্যাটট্রিক ৪ মেরে সেঞ্চুরির পথে সাকিব আল হাসান

Sheikh Anik

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy