খেলাধুলা

স্মৃতির পাতা থেকে ১৯৮৬ সাল: ম্যারাডোনার উত্থানের গল্প

স্পোর্টস ডেস্ক: ছিয়াশির বিশ্বকাপের পুরোটা জুড়েই কিন্তু একটি নামই বারবার উঠে আসবে, ‘ডিয়াগো ম্যারাডোনা’! বিশ্ব ফুটবলের আলোচক-সমালোচক যে যেভাবেই বলুন না কেন সবাই অন্তত এটুকু মানেন যে, ৮৬’র বিশ্বকাপটা বেশিরভাগ মানুষ চেনে ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ নামেই। স্মৃতির পাতা থেকে ১৯৮৬ সাল: ম্যারাডোনার উত্থানের গল্প।

দল যেহেতু ২৪, তাই এবারও ছয় গ্রুপ। তার প্রথমটিতে আবার ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা আর আলতোবেলির ইতালি! তবে খুব বেশি ঝামেলা হয়নি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন, রানার-আপ বেছে নিতে। ইতালির সঙ্গে ১-১এর ড্র হলেও বুলগেরিয়া আর কোরিয়াকে হারিয়ে গ্রুপের সেরা আর্জেন্টাইনরা। আর দুটো ড্র করায় রানার-আপ ইতালি। এই গ্রুপ থেকে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে বুলগেরিয়াও জায়গা পায় আরেক রাউন্ড খেলার!

গ্রুপ ‘বি’তে ছিলো স্বাগতিক মেক্সিকো। আর তাদের সঙ্গে প্যারাগুয়ে বেলজিয়াম আর ইরাক। তিন ম্যাচের প্রতিটিতেই হারায় ইরাকের বাদ পড়া নিশ্চিতই ছিলো। বাকি থাকে তিন। সেই তিনই চলে যায় পরের রাউন্ডে। এখানে চ্যাম্পিয়ন মেক্সিকো, দ্বিতীয় প্যারাগুয়ে আর বেলজিয়াম বেস্ট তৃতীয় দল হিসেবে।

গ্রুপ ‘সি’, সমানে সমান লড়ে সোভিয়েত আর ফরাসিরা। পয়েন্টও সমান। কিন্তু গোল গড়ে ফরাসিদের পেছনে ফেলে সোভিয়েতরা পায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়নশিপ। হবেই বা না কেন, সোভিয়েতরা হাঙ্গেরীকে ৬ গোলে বিধ্বস্ত করে গোল পার্থক্য অনেকটাই উঁচুতে নিয়ে গিয়েছিলো। দুটো দেশই দুটো জয় একটি ড্র। আর নিজেদের মধ্যে ড্রটা ছিলো ১-১এর। গ্রুপের বাকি দল কানাডা।

গ্রুপ ‘সি’র গল্পটাও এক তরফা। আয়ারল্যান্ড আর আলজেরিয়া পাত্তাই পায়নি সক্রেটিসদের ব্রাজিল আর স্প্যানিশদের সঙ্গে। আর তিন ম্যঅচই জিতে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিল পায় গ্রুপ সেরার খেতাব। দুই ম্যাচে জয় আর একটি হারে রানার-আপ স্পেন।

‘ই’ গ্রুপকেও আপনি কোন না কোন ভাবে এক তরফাই বলতে পারেন। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ডেনমার্ক তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছে। আর ওয়েস্ট জার্মানি জিতেছে একটিতে। আরেকটি ড্র। ফলে তিন পয়েন্ট নিয়ে তারা রানার-আপ। আর মজার ব্যাপার হলো দুই ড্র নিয়ে সেরা তৃতীয় দলের অংশ হিসেবে পরের রাউন্ড খেলার সুযোগ পায় ফুটবল বিশ্বের প্রথম চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে।

গ্রুপ ‘এফ’যেন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তাও আবার দলগুলো হলো, মরোক্কো, ইংল্যান্ড আর পোল্যান্ড। না দল চারটিই ছিলো। বাকিটা অর্থাৎ পর্তুগাল হয়েছে চতুর্থ। ওপরের তিনটি গেছে পরের রাউন্ডে। কিন্তু এই গ্রুপের হিসেবটা বেশ কঠিনই ছিলো। সবকটি দলই জিতেছে একটি করে ম্যাচ। কিন্তু মরোক্কো পর্তুগালকে ৩-১এ হারিয়ে পোল্যান্ড আর ইংল্যান্ডের সঙ্গে গোলশুন্য ড্র করে হয় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন; ৪ পয়েন্ট নিয়ে। গ্রুপে ইংল্যান্ড হয় দ্বিতীয় আর পোল্যান্ড তৃতীয়! অথচ দুটি দলের পয়েন্ট সমান, ৩।

মজা আরো আছে, দুটি দলই ড্র করে মরোক্কোর সঙ্গে, একই ব্যবধানে, ০-০! কিন্তু পোল্যান্ড পর্তুগালকে এবং ইংল্যান্ড ওই পোলিশদের হারানোয় রানার-আপ ইংলিশরা। এরপরের ধাপটা একটু বুঝে নিয়েই মূল খেলার কথা যাওয়া ভালো। ছয় গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন-রানার-আপের সঙ্গে আরো চারটি সেরা তৃতীয় দল মিলিয়ে ১৬ দলের নক-আউট পর্ব। তাতে স্বাগতিক মেক্সিকো দাড়াতেই দেয়নি বুলগেরিয়াকে।

তবে বেলজিয়ামের কাছে নত স্বীকার করতে হয়েছে প্রথম পর্বে উড়তে থাকা সোভিয়েত ইউনিয়নকে। সোভিয়েতদের হয়ে বেলানভের হ্যাট্রিকও বাঁচাতে পারেনি তাদের। নির্ধারিত সময় ২-২ গোলের সমতা নিয়ে অতিরিক্ত সময়ে সোভিয়েতদের দাড়াতেই দেয়নি বেলজিয়ানরা। পরের ম্যাচে ব্রাজিলের সামনে পোলিশরা। এই ফলও নিশ্চয়ই বলে দিতে হবেনা! ৪ গোলে পোল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয় সাম্বার দেশটি।

ব্রাজিল জিতলেও উরুগুয়েকে উৎড়াতে বেশ বেগ পেতে হয় ফুটবলের আরেক পরাশক্তি আর্জেন্টাইনদের। শেষ পর্যন্ত প্যাসকালির গোল রক্ষা করে আকাশিদের। শেষ ষোলোর আরেক ম্যাচে ফ্রান্সের সামনে ইতালি। প্লাতিনিদের ক্ল্যাসিক খেলার সামনে রীতিমতো হিমশিপ খেয়েছে ইতালিয়ানরা। তবে জিতেছে পশ্চিম জার্মানি। অনেক লাফালাফি করলেও বেশিদূর আর যেতে পারেনি মরোক্কো! ইংলিশ আর প্যারাগুইয়ানদের ম্যাচও এক তরফা।

লিনেকারের দুটি আর বার্ডলের এক গোলে প্যারাগুইয়ানরা পরাহুত ৩ গোলে। কিন্তু বাকি ম্যাচগুলো যেন তেন শেষ ষোলোর শেষ ম্যাচে ডেনমার্ককে রীতিমতো লজ্জায় ফেলে দিয়েছিলো স্প্যানিশরা। কে জানে প্রথমার্ধে ভালো খেলতে না পারার খেদেই কিনা ডেনিশদের তারা উড়িয়েই দিলো। স্কোরলাইন ৫-১ .. স্প্যানিশদের পক্ষে।

এর মধ্যে এক বুতরাগুয়েনোই করেছেন চারটি!
কোয়ার্টার ফাইনালের গল্পগুলো সব সময়ই একটু ভিন্ন হয়। দোস্তি-দোস্তি ভাবটা প্রায় থাকেই না। পাশ্ববর্তী দেশ, বন্ধু রাষ্ট্র … এগুলো তখন উবে যায়। সেখানে শুধু একটা শব্দই থাকে ‘লড়াই’। সেই প্রাণপন লড়াইয়ের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি ফুটবলের দুই পরাশক্তি ব্রাজিল আর ফ্রান্স। ওই যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কথা হচ্ছিলো, প্রথম ম্যাচেই মিললো তার প্রমান। খেলা শুরুর ১৭ মিনিটের মধ্যে ব্রাজিলিয়ান কারেকা দল আর দলের সমর্থকদের আনন্দে ভাসালেন।

কিন্তু বেশিক্ষণ টিকলো না ওই আনন্দ। টিকবে কি করে; বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় প্লাতিনি যে তখনও নিজের কিছু দেখানই নি! তিনি দেখালেন, প্রথমার্ধ শেষ হতে তখন মাত্র মিনিট পাঁচেক বাকি; গোল পেলেন প্লাতিনি। এবার উল্লাস ফরাসী শিবিরে। সেই উল্লাস আর উৎকন্ঠা নিয়েই খেলার বাকিটা সময় পার করতে হয়েছে দুদলকে। মানে, নির্ধারিত সময় এবং তারপর অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য!

এবার? পেনাল্টি শ্যূটআউট। ব্রাজিলের পক্ষে কিক নেন; সক্রেটিস, আলেমাও, জিকো, ব্রানকো আর জুলিও সিজার। অন্যদিকে ফরাসিদের হয়ে আসেন স্তোপাইরা, আমোরস, বেলোনি, প্লাতিনি আর ফার্নান্ডেজ। কিন্তু কিক-আউটের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। সক্রেটিসের মিস। প্রথম তিনটি কিকে ব্রাজিল পিছিয়ে ২-৩ এ। কিন্তু চতুর্থ কিকে ব্রাজিলের ব্রানকো গোল করলেও স্কোর লাইন সমান হয় ৩-৩! কেন জানেন, দলের হয়ে চার নম্বর কিকটাকে জালে পৌছাতে পারেননি, ফরাসি হিরো প্লাতিনি!

কিন্তু তাতে অবশ্য ফরাসিদের কাঁদতে হয়নি। পঞ্চম কিকটি জুলিও সিজার মিস করলেও ফার্নান্ডেজ সেই ভুল করেননি। ফরাসিরা পেয়েছে ৪-৩এর জয়। নির্ধারিত সময় ড্র ছিলো দ্বিতীয় কোর্য়াটার ফাইনালটিও। যেখানে স্বাগতিক মেক্সিকানদের প্রতিপক্ষ জার্মানরা। এই ম্যাচ আবার গোলশূন্য। পেনাল্টি শ্যূটআউট। আরে তাতে সবাইকে অবাক করে জার্মানরা জেতে ৪-১এ!

কেননা মেক্সিকোর নেগ্রেটের প্রথম শটটি গোল হলেও পরের দুজনের বল জাল পর্যন্ত পৌছেনি। অন্যদিকে জার্মানদের প্রথম চারটি শট থেকে একে একে বল জালে পাঠান আলোফস, ব্রেমে, ম্যাথিউস এবং লিতবাস্কি। পঞ্চম শটটি আর দরকারই পরেনি।

৮৬’র বিশ্বকাপের তৃতীয় কোয়ার্টার ফাইনাল ছিলো রীতিমতো যুদ্ধ! ফুটবল বিশ্বের বেশিরভাগ লেখক, সমালোচক, পর্যবেক্ষক কিংবা যেই হোক না কেন কোথাও কিছু লিখতে গেলে, বলতে গেলে যে ম্যাচটির কথা স্মরণ করেন, এটিই সেই বিখ্যাত ম্যাচ। যেখানে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ড! বলা বাহুল্য এটিই সেই ম্যাচ, যার কারণে বিশ্বে সবচে বেশি নন্দিত এবং কারো কারো কাছে নিন্দিত ম্যারাডোনা!

সে যাক অত ভূমিকা করে দরকার কী, কেননা এই ম্যাচের ফলটা বলতে গেলে সবারই মুখস্ত। ২-১। জয় আর্জেন্টিনার। আর্জেন্টিনাইদের হয়ে দুটি গোলই ম্যারাডোনার আর ইংলিশদের হয়ে গোলটি করেছিলেন লিনেকার। আর আর্জেন্টিনার হয়ে? আর কে, ওই যে লিটল জিনিয়াস; ফুটবল ঈশ্বর; ম্যারাডোনা। সে তো একাই এক’শ। সেমিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। দুটো গোল তাঁরই।

অবশ্য তার এই এক ম্যাচ ফুটবল বোদ্ধাদের দিয়েছে আলোচনা-লেখালেখির মশলা। এই ম্যাচ ইংলিশদের জন্য যতনা যাতনার আর্জেন্টাইনদের জন্য ততটাই মধুর। হ্যা, এই ম্যাচেই ফুটবল বিশ্বের দুটো সর্বাধিক আলোচিত গোল করেছিলেন তিনি। যার প্রথমটি নিয়ে যত না বিতর্ক দ্বিতীয়টি নিয়ে ততটাই উচ্ছাস!

দ্বিতিয়ার্ধের ছয় মিনিটের মাথায় উড়ে আসা বলকে হেড করে জালে পৌছে দিয়েছিলেন ম্যারাডোনা। গোল! কিন্তু কারো কারো যেন সন্দেহ রয়েই গেলো। ম্যারাডোনার উচ্চতার চেয়ে বেশি ওপরে ওঠা বল কিভাবে মাথা ঠুঁকে জালে পৌছে দিলেন ম্যারাডোনা! অত কিছু ভাবার সময় আছে?

আর্জেন্টাইন শিবিরে ততক্ষণে উচ্ছাস শুরু হয়ে গেছে। গ্যালারিতে তখন … আর্জেন্টিনা … আর্জেন্টিনা রব! লিটল মাস্টার গোল করেছে, আর্জেন্টিনা এগিয়ে গেছে এক গোলে। কিন্তু ম্যাচের পরে বহু আলোচনা-সমালোচনা হলো। কিছুটা গুঞ্জনও! কথা উঠলো ম্যারাডোনা মাথা নয় হাত দিয়ে করেছেন ওই গোল। কিন্তু প্রমান কোথায়! এমনকি ফটোগ্রাফারের ছবি থেকেও যে ওটা প্রমান করা গেলো না!

অনেক পরে অবশ্য গোমড় ফাঁস করে নিজের মহত্য দেখিয়েছেন ম্যারাডোনা নিজেই। বলেছেন, হ্যা ওই গোলটা হাতেরই ছিলো। কিন্তু ওটা ছিলো ঈশ্বরের হাত! সত্যিই তাই ম্যারাডোনা যদি ফুটবলের ঈশ্বর হয়ে থাকেন এবং তিনিই যদি করে থাকেন ওই গোল, তাহলে তো ওটা ঈশ্বরেরই হাত! তবে প্রথম গোল নিয়ে যত কথাই উঠুক মাত্র তিন মিনিট বাদে করা দ্বিতীয় গোলটি এখনও অনেকের মতে বিশ্বকাপের সবচে সেরা গোল।

নিজেদের মাঠ থেকে বল নিয়ে ড্রিবলিং আর টেকনিকে পুরো ইংলিশ শিবিরকে বোকা বানিয়ে ওই ঈশ্বরই জালে ফেলেছিলো বল। ইংলিশ কিপার পিটার শিলটন শুধু তাকিয়ে দেখেছেন বলের জাল কাঁপানো। খেলা শুরুর মিনিট নয়েক আগে লিনেকার একটা গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু তাতে ইংলিশদের কান্না থামেনি।

কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ ম্যাচও নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত ছিলো সমান। বেলজিয়াম আর স্পেইন ১-১ স্কোর লাইন নিয়ে যায় পেনাল্টি শ্যূট নিতে। সেখানে বেলজিয়ানরা পাঁচটি পেনাল্টির পাঁচটিই গোল করে। কিন্তু স্প্যানিশরা করে চারটি। মিস করেন এলয়! ব্যস ৫-৪ গোলের জয় নিয়ে শেষ চারে উঠে যায় বেলজিয়াম।

সেমিফাইনালের লাইন-আপটা বলে দিলে নিশ্চয়ই মনে করতে পারবেন কোন দুটি দল খেলেছিলো ফাইনালে! প্রথম সেমিতে জার্মানির প্রতিপক্ষ ছিলো ফ্রান্স। আর দ্বিতীয়টিতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। ঠিক ধরেছেন, দুই ম্যাচের স্কোর লাইন ছিলো একই ২-০! জার্মানরা ফরাসিদের আর আর্জেন্টাইনরা বেলজিয়ানদের হারিয়েছিলো ওই ব্যবধানে। জার্মানদের পক্ষে সেমিতে গোল করেন ব্রেমে আর ফোলার।

ফাইনাল? ওহ! সে তো আরেক মহারণ। জার্মানদের পাওয়ার ফুটবলের সঙ্গে আর্জেন্টাইনদের বিশেষ করে ম্যারাডোনা ক্ল্যাাসিক! নিজে একটা গোলও করেননি কিন্তু এমন সময় এমন গোলের যোগান দিয়েছেন যা কিনা আর্জেন্টাইনদের দিয়েছে বিশ্বকাপ ছোঁয়ার সুযোগ। দারুণ শুরু করা আর্জেন্টিনার হয়ে মাত্র ২৩ মিনিটেই সাফল্য আনেন ব্রাউন। জার্মানরা তখন নাস্তানাবুদ। এক গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধ খেলতে নামে আর্জেন্টাইনরা। দশ মিনিটের মাথায় আরো এক গোল করে ব্যবধান দ্বিগুন করেন ভালদানো।

কিন্তু শেষ পনেরো মিনিটে দারুণ ভাবে ফিরে আসে জার্মানরা। ৭৪ মিনিটে রুমিনিগে ব্যবধান কমানোর ৬ মিনিট পর সমতা ফেরান ফোলার! নির্ধারিত সময়ের তখন মাত্র মিনিট দশেক বাকি। ফর্ম ফিরে পেয়ে দাপুটে হয়ে উঠলো জার্মানরা। ঠিক তখনই আবারও ত্রাতা হয়ে দেখা দিলেন দিয়াগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা।

৮৩ মিনিটেই বুরোসাগাকে যোগান দিলেন জয় সূচক গোলের। বুরোসাগা কী আর এত বোকা ‘হিরো’ হওয়ার চান্স মিস করবেন! ১ লাখ ১৪ হাজার ৬শ দর্শক হঠাৎই যেন ভাগ হয়ে গেলো। এক পাশে চলছে উচ্ছাস আর জয়ের উন্মাদনা অন্যদিকে থমথমে নিরবতা। নব্বই মিনিট শেষ হতে তখন মিনিট সাতেক বাকি। কিন্তু দর্শকরা ঠিকই বুঝে ফেলেছিলো। এটাই ছিলো ৮৬’র বিশ্বকাপের শেষ গোল।

আর তাতেই ৩-২এর জয় নিয়ে দ্বিতীয় বারের মতো বিশ্বকাপ গেলো আর্জেন্টিনায়। ফুটবল ঈশ্বর ম্যারাডোনা যখন ক্যাপ্টেন হিসেবে ট্রফি হাতে নিলেন মনে হলো পুরো বিশ্বই যেন আলোকিত হয়ে উঠেছে। আর মাঝে দাড়িয়ে জ্বলজ্বল করে জ্বলছেন ফুটবল বিশ্বের সেরার সেরা ‘দিয়াগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা’। যার হাতে উঠেছে সেরা খেলোয়াড়ের ট্রফি ‘গোল্ডেন বল’।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy