জাতীয়

মির্জা ফখরুল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত শেষে যা বললেন

নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য দ্রুত তাকে ঢাকার ইউনাইটেড বা অ্যাপোলো হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, সরকার কর্তৃক গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ও আইজিকে(প্রিজন) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

রোববার সচিবালয়ে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে বিএনপির সিনিয়র ৭ নেতা। বৈঠক শেষে তারা সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘এর আগে খালেদা জিয়া ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ওই হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানেন তাঁর সমস্যাগুলোর কথা।

তাই, খালেদা জিয়ার ইচ্ছা অনুযায়ী আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়েছি সেখানেই চিকিৎসা দিতে। কারাগারে বন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ।

তার অবস্থা দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। তার দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেছি। এখন সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলাম আমরা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘তিনি বলেছেন, যারা দায়িত্বে আছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও আইজি প্রিজনসসহ অন্যদের সাথে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি এও বলেছেন যে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যারা আছেন, তাদের পরামর্শ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন।’

সেক্ষেত্রে কবে নাগাদ ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে, সেই প্রতিশ্রুতি মিলেছে কি না জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সেটা সুনির্দিষ্টভাবে উনি কিছু বলেননি। বলেছেন যে, আজকেই ওই সভাটা করবেন।’

মির্জা ফখরুল ছাড়াও বিএনপির ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন- কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিঞা, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এদিকে বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন কারাবন্দি খালেদা জিয়া।

রোববার খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়সার কামাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট করেন। সোমবার রিটের ওপর শুনানি হতে পারে।

উল্লেখ্য, জিয়া দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানি এতদিন চলছিল কারাগারের কয়েকশ গজ দূরে বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন কারা অধিদফতরের মাঠে বিশেষ এজলাসে।

নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গত মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের ৭ নম্বর কক্ষকে আদালত ঘোষণা করে সেখানেই দাতব্য ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার শুনানি করার নির্দেশ দেয়। এরপর বুধবার সেই আদালত বর্জন করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

এ কারাগারেই আরেকটি ভবনের দোতলার একটি কক্ষে গত সাত মাস ধরে বন্দি রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি একই বিচারক তাকে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেন।

বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা চেয়ে খালেদা জিয়ার রিট

বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছেন কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। রোববার খালেদা জিয়ার আইনজীবী কায়সার কামাল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট করেন। সোমবার রিটের ওপর শুনানি হবে।

রিটকারী আইনজীবী কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়ার পছন্দমতো কোনো হাসপাতালে সুচিকিৎসার নির্দেশনা চেয়ে রোববার দুপুরে রিট করা হয়েছে। সোমবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি শেখ আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

কায়সার কামাল বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমাদের তরফ থেকে সরকারের প্রতি উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল বলেছেন- খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে কারাগারে আদালত বসানো হয়েছে।

এতে সরকার কর্তৃক স্বীকৃত হয় যে খালেদা জিয়া অসুস্থ। বিএনপি চেয়ারপারসনও আদালতে হাজির হয়ে বলেছেন- তিনি খুবই অসুস্থ, প্যারালাইজড হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। এ কারণে ওনার পছন্দমতো হাসপাতালে চিকিৎসার নির্দেশনা দিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আমাকে রিট করার দায়িত্ব দিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট্র দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। এর পর থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

আমাদের চেয়ারপারসন কারারুদ্ধ রয়েছেন, তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।সে বিষয়ে কথা বলতে আমরা এসেছি। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তাকে যেন চিকিৎসা দেয়া হয়, যেখানে তিনি পছন্দ করেন।

ফখরুল বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, যারা দায়িত্বে আছেন, সচিব, আইজি প্রিজনসহ অনান্যদের সাথে আলাপ করে তিনি বিষয়টি দেখবেন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার যারা আছেন, তাদের সাথে কথা বলেও তিনি ব্যবস্থা নেবেন।

কবে ব্যবস্থা নেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উনি সুনির্দিষ্ট বলেননি।আগেও আপনারা এ দাবি জানিয়েছিলেন। এবার কি অনুমতি দেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আমরা বলতে পারছি না।

তিনি আরও বলেন, আমাদের চেয়ারপার্সনের পছন্দ হল ইউনাইটেড হাসপাতাল। আমরা মনে করি যে, সেখানেই তাকে চিকিৎসা করানো উচিত। কারণ তিনি অসুস্থ রোগী। তার চয়েজটা গুরুত্ব দেয়া উচিত।

এরআগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে আসা ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।রোববার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ৩টার দিকে সচিবালয়ে প্রবেশ করে বিএনপির প্রতিনিধি দল।

মির্জা ফখরুল ছাড়াও প্রতিনিধি দলে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন, জমির উদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশের আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের ১০ সদস্যের দল আসার কথা ছিল। আমরা ৮ জন এসেছি।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পরে এসে আলোচনায় যোগ দেবেন। আরেকজন আসবেন না।’এর আগে বৃহস্পতিবার সাক্ষাতের অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় বিএনপি।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy