খেলাধুলা

‘আমার মনে হচ্ছিলো, ছেলেটা নিজের শরীরটাই পেতে দিয়েছে’

স্পোর্টস ডেস্ক: ওপেনিংয়ে নেমে চোট। হাসপাতালের বিছানা ছুয়ে আসা তামিম মাঠের বাহিরে কমপক্ষে ৬ সপ্তাহ। কিন্তু এই সকলকিছুকে উড়িয়ে দিয়ে আবারো ব্যাটংয়ে তামিম। এক হাতের অনবদ্য ব্যাটিংয়ে পুরোটা সময় সঙ্গ দিলেন মুশফিককে। সহযোগিতা করলেন ব্যক্তিগত সেরা ইনিংটি খেলতে ।

তামিমের দুঃসাহসী একহাতি ব্যাটিংয়ে সরগরম সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যম। লন্ডন প্রবাসী, তরুণ লেখক আমিনুল ইসলাম তার লিখেছেন,

“আপনি কি দেশপ্রেমের সংজ্ঞা খুঁজে বেড়াচ্ছেন? খুব বেশি দূরে যেতে হবে না। আপনারা যারা আজকের এশিয়া কাপে বাংলাদেশ-শ্রীলংকার খেলা এই মুহূর্তে দেখছেন তারা নিশ্চয় এর মাঝে বুঝে গিয়েছেন। তামিম ইকবালকে খেলার একদম প্রথম দিকে হাতে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছেড়ে হাসপাতালে যেতে হয়েছিল। এরপরই খবর আসে-এই এশিয়া কাপে তামিমের আর খেলা হচ্ছে না। কারণ হাতে ফ্রেকচার ধরা পড়েছে। এর মাঝে বাংলাদেশ ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলেছে। স্কোর খুবই কম। তামিম ইকবাল ততক্ষণে হাসপাতাল থেকে আবার ড্রেসিং রুমে। উইকেটে তখনো মুশফিক সেঞ্চুরি করে অপরাজিত আছেন। খেলার তখনও চার-পাঁচ ওভার বাকী। মুস্তাফিজ যখন নবম খেলোয়াড় হিসেবে আউট হয়ে গেলো, সবাই ভেবেই নিয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস এখানেই শেষ। কারণ তামিমের তো আর এই হাত নিয়ে নামার প্রশ্নই আসে না।”

“জগতের অন্য যে কোন দেশের খেলোয়াড় হলে হাতের এই অবস্থা নিয়ে খেলায় নেমে যেতেন না। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে তামিম ইকবাল মাঠে নেমে গেলেন। স্রেফ এক হাতে ব্যাট করেছে ছেলেটা আজ। বোলার যখন একটা বাউন্সার দিল তামিমকে, আমার মনে হচ্ছিলো- ছেলেটা নিজের শরীরটাই পেতে দিয়েছে। তামিম নামার পর মুশফিক একের পর চার-ছয় মেরেছে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ রান একটা ভদ্রস্থ অবস্থায় পৌঁছেছে বলেই মনে হচ্ছে এখন। অথচ তামিম না নামলে হয়ত এতো রান হতো না। তামিম চাইলে না নামতে পারতো। আমি মোটামুটি নিশ্চিত পৃথিবীর অন্য যে কোন দেশের খেলোয়াড় হলে এই অবস্থায় মাঠে নামত না। আর সে যদি হয় তামিমের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড়, যে কিনা পৃথিবীর নানান লীগে খেলে থাকে; তাহলে তো অবশ্যই না! অথচ ছেলেটা খেলতে নেমে গেল। একেই মনে হয় দেশপ্রেম বলে।”

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy