খেলাধুলা

মুশফিকের এই লড়াকু ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের রহস্য কি?

স্পোর্টস ডেস্ক: ১৫০ বল খেলে ১৪৪ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেছেন মুশফিকুর রহিম। যা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস।
মুশফিকের এই লড়াকু ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের রহস্য কি? মুশফিক দুবাই ও আবুধাবির গরম আবহাওয়ায় কিভাবে ব্যাট করতে হবে তার জন্য বিগত পাঁচ সপ্তাহ কঠোর পরিশ্রম করেছেন। এমনকি দলের অন্যান্য খেলোয়াররা যখন ঈদের ছুটিতে ব্যস্ত মুশফিক তখন ব্যাট-বল নিয়ে স্টেডিয়ামে অনুশীলনে হাজির। দলের ঐচ্ছিক ছুটির দিনে ক্রিকেট সরঞ্জাম নিয়ে নেটে হাজির হওয়া একমাত্র ক্রিকেটারটির নামও মুশফিক। বিশ্বাস হচ্ছে না? কিন্তু এটাই বাস্তব। ঢাকার গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় কঠোর পরিশ্রমই তাকে আরব আমিরাতের অচেনা গরমে কঠিন বাস্তবতা মোকাবেলায় সাহায্য করেছে।

সকালে এক সেশনে অনুশীলন করেছেন। আবার সন্ধ্যায় ক্লান্ত থাকা সত্তে ও দলের টিম মিটিংয়ে হাজির থাকতেন। এমনটা শুধু এই প্রথম করেছেন তা কিন্তু নয়। সব সময়ই মুশফিক এরকম।

শুধু মুশফিক নন, দলের আরেক কান্ডারি মাশরাফি ও তামিম ও ফিটনেস ঠিক রাখার জন্য কঠোর অনুশীলন করেছেন। দলের প্রতি আত্মনিবেদনে মুশফিক, মাশরাফি, তামিমদের জুড়ি মেলা ভার। এখনো দলের সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম করা ক্রিকেটারটির নাম মুশফিক।

শনিবারের শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপে তার ইনিংসটিই সেরা ইনিংস। বাকি সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেল যেন। কী এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেললেন তিনি!

এই ম্যাচে মুশফিক খেলা নিয়ে কিছুটা হলেও সংশয় ছিল। মুশফিকের পাঁজরে নাকি ব্যথা। কিন্তু দলের প্রয়োজনে মুশফিক শুধু মাঠে নামলেন না, প্রথম ওভারের শেষেই মাঠে নামলেন। আরব আমিরাতের অচেনা গরমে খেলতে হলো ইনিংসের শেষ ওভার পর্যন্ত। এর মধ্যে দল বেশ কয়বার ঝড়ে পড়েছে। কিন্তু একদিকে হাল ধরে রেখেছিলেন মুশফিক।

ইনিংসের শুরুতেই মাঠে নামতে হবে এমনটা কি ভেবেছিলেন মুশফিক। আর মাঠে নেমেই দলের বিপর্যয়ে হাল ধরতে হবে তাও কি কল্পনা করেছিলেন ? ক্রিকেটে অনেক কিছুই কল্পনা আর বাস্তবের সাথে মিলে না। তাই প্রচন্ড চাপে দলের হাল ধরতে হলো মুশফিককে। ৩ রানে হারিয়ে ফেলেন তিনজন প্রথম সারির ব্যাটসম্যানকে। দলের প্রচণ্ড বিপর্যয়ের মধ্যেই রানের চাকা সচল রেখেছেন। শেষ ওভার পর্যন্ত সতীর্থদের কে সাথে নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছেন। ইনিংসের তিন বল বাকি থাকতে আউট হওয়ার আগে মুশফিকের নামের পাশে যোগ হয়েছে ১৪৪ রান, যা তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস ও বটে।

এর আগে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শুধু তামিম ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫৪ রানের ইনিংস খেলেন। একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে এশিয়া কাপে দুই দুইটি সেঞ্চুরির মালিক হয়ে গেলেন মুশফিক।

কিন্তু আজকের সেঞ্চুরিটার মাহাত্ম্য যে অনেক বেশি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বাংলাদেশ ২৬১ আর মুশফিক ১৪৪। স্কোর বোর্ডেই তো বোঝা যাচ্ছে মুশফিকের ইনিংসের গুরুত্ব। মোহাম্মদ মিঠুনকে সঙ্গে নিয়ে ১৩১ রানের জুটিটা না গড়লে তামিমের সেই বহু দিন মনে রাখার মতো স্মৃতি জন্ম দেওয়ার সুযোগই হয়তো হতো না। মুশফিক ছিল বলেই বাংলাদেশ নবম উইকেট পড়ে যাওয়ার পর তামিমকে আবার পাঠিয়েছে।

চার ঘণ্টার মতো ছিলেন উইকেটে। মোকাবেলা করেছেন অর্ধেক বল। আরব আমিরাতের অসহ্য গরমে ঘেমে–নেয়ে একাকার। সঙ্গে ছিল মানসিক চাপ ও সকালের পাঁজরের ব্যথা। এই পরস্থিতিতেও এরকম দায়িত্বশীল ও সময়োপযোগী ব্যাটিং মুশফিকের দ্বারাই সম্বভ।

এশিয়া কাপের শুরুটা দুর্দান্তভাবেই হলো। অনুমিতভাবেই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটা ও পেলেন মুশফিক।

আরও পড়ুন

হ্যারি কেইন,এক মাসের জন্য মাঠের বাইরে

Syed Hasibul

হ্যামিল্টন মাসাকাদজা অাউট। জিম্বাবুয়ের তৃতীয় উইকেটের পতন

হ্যাপীর কারণে যেভাবে বদলে গেল রুবেলের ক্যারিয়ার!

হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের মিশন শুরু করলেন মেসি। দেখুন আজকের ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকের ভিডিও

সোহাগ হোসেন

হ্যাটট্রিক করলো চেলসি

Syed Hasibul

হ্যাটট্রিক ৪ মেরে সেঞ্চুরির পথে সাকিব আল হাসান

Sheikh Anik

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy