খেলাধুলা

এইমাত্র পাওয়াঃ পাকিস্তানের বিপক্ষে চূড়ান্ত একাদশ ঘোষনা করল বিসিবি

আবুধাবিতে এশিয়া কাপ ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আফগানিস্তানকে ৩ রানে হারিয়ে ফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। দিনের অন্য ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারত জয় পাওয়ায় এখন সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই ফাইনালে উঠতে পারবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। পাকিস্তান ম্যাচে বাংলাদেশের একাদশে একটি পরিবর্তন দেখা যেতে পারে সেটি হচ্ছে নাজমুল হাসান শান্ত বাদ পড়তে পারেন তার পরিবর্তে সুযোগ পেতে পারেন আচমকা স্কোয়াডে ডাক পাওয়া সৌম্য সরকার।

ইমরুল কায়েস সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করেছেন এবার সৌম্যকে দিয়েও চেষ্টা করতে পারে বাংলাদেশ, কেননা ওপেনিং-এ খেলা নাজমুল হাসান শান্ত তার উপর যে ভরসা রাখা হয়েছিল গত তিন ম্যাচে তার কোন প্রতিদান দিতে পারে নি, তিন ম্যাচেই ব্যার্থ। ব্যর্থতার বোঝা না বাড়িয়ে এই মুহুর্তে পাকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপুর্ন মুহুর্তে তাকে একাদশে সুযোগ না দিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিজ্ঞ সৌম্য সরকারকে সুযোগ দেওয়াই হবে সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত। এই একটি পরিবর্তন ছাড়া আর কোন পরিবর্তন না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আগের দুই ম্যাচের মত এই ম্যাচেও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দেশ থেকে উড়িয়ে আনা দুই ওপেনারের মধ্যে ইমরুল কায়েসকে দলভুক্ত করলেও ব্যাটিং উদ্বোধনীতে ছিলেন যথারীতি লিটন দাস ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে এদিনও শান্ত নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। দলীয় ১৬ রানে আফতাব আলমের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি (৬)। পরের ওভারে মুজিব উর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হন মোহাম্মদ মিঠুন (১)। ১৮ রানেই টপ অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যানকে হারালে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।

তবে সেই চাপ জয় করে প্রতিরোধ গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন লিটন ও মুশফিকুর রহিম। কিন্তু দলীয় ৮১ রানে রশিদ খানের বলে ইহসানউল্লাহর হাতে তালুবন্দী হন ৪৩ বলে ৪১ রান করা লিটন। এরপর দলীয় ৮১ রানেই মুশফিক (৫২ বলে ৩৩) এবং ৮৭ রানে সাকিব আল হাসান (০) রানআউট হলে আবারও টাইগারদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের শঙ্কা জেগে ওঠে।

তবে বিপর্যয় সামলে শক্ত হাতে দলের হাল ধরেন ইমরুল কায়েস ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তাদের বুদ্ধিদীপ্ত দৃঢ় ব্যাটিংয়ে আলোর পথ খুঁজে পায় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। নিজেদের জুটির রেকর্ড (একইসাথে ষষ্ঠ উইকেটে দলের রেকর্ড) গড়ে দুজনে দলকে এনে দেন লড়াকু সংগ্রহের ভিতও।

তবে রিয়াদ ইনিংস শেষ করে যেতে পারেননি। ৪৭তম ওভারে আফতাবকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে রশিদ খানের হাতে তালুবন্দী হন তিনি। তার আগে ৮১ বলের মোকাবেলায় ৭৪ রান করেন, যেখানে ছিল তিনটি চার ও দু’টি ছক্কা।

অবশ্য রিয়াদের বিদায়ের আগে ইমরুল ক্রিজে থাকায় বাংলাদশের মজবুত স্কোরের আশা জিইয়ে ছিল তখনও। নতুন ব্যাটসম্যান অধিনায়ক মাশরাফিকে সঙ্গে নিয়ে দেখেশুনেই খেলছিলেন ইমরুল। যদিও শেষ ওভারের আগের ওভারে মাশরাফিই (১০) ফিরে যান সাজঘরে।

শেষপর্যন্ত মিরাজকে নিয়ে অপরাজিত থেকেই মাঠ ছাড়েন ছয়টি চারের সাহায্যে ৮৯ বলে ৭২ রান করা ইমরুল। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ২৪৯ রান।আফগানদের পক্ষে আফতাব তিনটি এবং মুজিব দুটি উইকেট শিকার করেন।

জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই দুটি উইকেট হারায় আফগানিস্তান। দলীয় ২৬ রানে দুই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ইহসানউল্লাহ জানাত (৮) ও রহমত শাহকে (১) হারিয়ে চাপে পড়ে যায় আসগর আফগানের দল। তবে সেই চাপ সামলে দেখেশুনে খেলতে থাকেন ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে থাকেন হাশমাতউল্লাহ শাহিদি। অর্ধশতক তুলে নেওয়ার পর সাজঘরে ফেরেন শাহজাদ। ৮১ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলার পর রিয়াদের বলে বোল্ড হন তিনি।

তবে শাহজাদের বিদায়ের পরও সাবলীলভাবে খেলে যাচ্ছিলেন শাহিদি। ব্যক্তিগত ৩৯ রানের মাথায় আফগান অধিনায়ক আসগরকে (৩৯) ফেরান টাইগার দলপতি মাশরাফি। এরপর সাজঘরে ফেরেন ৯৯ বলে ৭১ রান করা শাহিদিও। তবে এরপর মারমুখো ব্যাটিং করতে থাকেন মোহাম্মদ নবী। ২৮ বলে ৩২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে নবী যখন ফিরছেন তখন ম্যাচ ঝুলছে পেন্ডুলামের মত।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য আফগানদের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। ওভারের প্রথম বলে দুই রান সংগ্রহের পর দ্বিতীয় বলে সাজঘরে ফেরেন রশিদ। নাটকীয় ঐ ওভারে লেগবাই থেকে আরও ২ রান নিতে সক্ষম হয় আফগানিস্তান। মুস্তাফিজের করা দুর্দান্ত ওভারে ৩ রানের জয় পায় বাংলাদেশ।বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফি ও মুস্তাফিজ দুটি এবং সাকিব আল হাসান ও রিয়াদ একটি করে উইকেট শিকার করেন।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy