খেলাধুলা

পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতলেই ফাইনাল নিশ্চিত বাংলাদেশের

জমে উঠেছে এশিয়া কাপের টুর্নামেন্ট। গতকাল বাংলাদেশের কাছে হেরে ইতিমধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ নিয়েছে আফগানিস্তান দল। আর গতকাল বাংলাদেশের এই জয়ের ফলে ফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। এর পরের ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে পারলেই তৃতীয় বারের মতো এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ দল।

একটুর জন্য আফগানিস্তানের বিপক্ষে বেঁচে জন্য বাংলাদেশ দল। মোস্তাফিজুর রহমান এর কালজয়ী এক ওভারে নাটকীয় ভাবে জয়লাভ করলো বাংলাদেশ। শেষ ওভারে বাংলাদেশকে হারাতে আফগানিস্তানের প্রয়োজন ৮ রানের।

কিন্তু অনেকদিন পর বাংলাদেশ দলকে আবারো নিজের বোলিং কারিশমা দেখালেন মোস্তাফিজুর রহমান। মুস্তাফিজের কৌশলী বোলিংয়ের সামনে ৩ রানে অসহায় আফগানদের আত্মসমর্পন করতে হলো।

বাংলাদেশের দেওয়া ২৫০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৪৬ রান সংগ্রহ করে আফগানিস্তান দল। ম্যাচে বল হাতে এসেই উইকেটের দেখা পান টাইগার কাটার স্পেশালিস্ট মোস্তাফিজুর রহমান।

৫ম ওভারে নিজের প্রথম ডেলিভারিতে ইহসানুল্লাহকে নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচে পরিণত করেন। ১১ বল খেলে ২ চারে ৮ রান সংগ্রহ করে দলকে ২০ রান এনে দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার।

ইহসানুল্লাহ ফেরার পর দলের সঙ্গে ৬ রান যোগ হতে না হতেই ব্যক্তিগত ১ রানে ফেরেন আফগান টপ অর্ডার রহমত শাহ। ৮ম ওভারে নাজমুল ইসলাম অপুর দ্বিতীয় ডেলিভারিতে প্রথম রান কাভারেরর পর দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে ক্রিজের অপর প্রান্তে থাকা মোহাম্মদ শাহজাদের সঙ্গে ভুলবোঝাবুঝিতে সাকিবের সরাসরি থ্রোতে কাটা পড়েন।

তৃতীয় উইকেটে হাসমতউল্লাহ শহিদিকে সঙ্গে নিয়ে টাইগারদের ওপর ব্যাট হাতে চোখ রাঙাচ্ছিলেন মারকুটে ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ। কিন্তু খুব বেশিক্ষণ তা স্থায়ী হয়নি। ব্যক্তিগত ৫৩ রানে তাকে বোল্ড আউট করে দলকে ব্রেক থ্রু এনে দেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ফিরে যাওয়ার আগে এই জুটিতে সংগ্রহ করেন ৬৩ রান।

এই ম্যাচ দিয়েই ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ১৩তম অর্ধশতকের দেখা পেয়েছেন শাহজাদ।

তারপরেও যেন তাদের দমিয়ে রাখা যাচ্ছিলো না। চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক আসগর আফগানকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছিলেন শহিদি। অবশেষে তা থামিয়ে দিলেন টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মর্তুজা। ৪০ তম ‍ওভারে তার ৪র্থ ডেলিভারিতে আসগরকে ব্যক্তিগত ৩৯ রানে মাহমুদউল্লাহর তালুবন্দি করে। আবার জেগে উঠলো বাংলাদেশ শিবির।

পঞ্চম উইকেটটিও এলো ওই মাশরাফির কল্যাণে। ৪৪তম ওভারে নিজের ৪র্থ বলে ক্লিন বোল্ড করেন সেট ব্যাটসম্যান শহিদকে। আর এই উইকেট দিয়েই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ওয়ানডেতে ২৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন দিন বদলের এই দলপতি।

ষষ্ঠ উইকেটেও মোহাম্মদ নবী ও সামিউল্লাহ শেনওয়ারি টাইগারদের ওপর চোখ রাঙাচ্ছিলেন। কিন্তু ৪৮তম   ওভারে সাকিব জাদুতে ব্যক্তিগত ৩৮ রানে নবী নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধরা পড়লে উল্লাস ফেরে লাল সবুজের দল।

আফগানদের হারের কফিনের শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন মোস্তাফিজ। ৫০ তম ওভারে বল হাতে এসে কাটারের পসরা সাজিয়ে নিজের দ্বিতীয় বলে রশিদ খানকে ৫ রানে কট এন্ড বোল্ড করলে সেই উল্লাস আরও বেড়ে যায়। তবে জয় নিশ্চিত হয়নি। কেননা শেষ ৪ বল থেকে তাদের প্রয়োজন ছিলো ৬ রান।

কিন্তু বিধি বাম। মোস্তাফিজ এমনই কাটার জাদু চালালেন যাতে করে পুরোপুরি পরাস্ত হলেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি ও গুলবাদিন নাইব। ১৯ বলে অপরাজিত ২৩ রান করেও চোখের সামনে মুঠো গলে ম্যাচটি বেরিয়ে যেতে দেখলেন সেট ব্যাটসম্যান শেনওয়ারি। ফলে ৩ রানের স্বস্তির জয় ধরা দিল মাশরাফি শিবিরে।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy