গ্রাম-গঞ্জ

কাশিয়ানীতে শশুর বাড়িতে জামাই খুনের রহস্য উদঘাটন

গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী শশুর বাড়িতে জামাই খুনের ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করেছে কাশিয়ানী থানা পুলিশ। জামাই কাজি আরিফ হোসেনকে নির্মম ভাবে পিটেয়ে হত্যা করেছে স্ত্রী ও তার ভাড়াটিয়া খুনিরা। স্ত্রী,শশুর ও এক ভাড়াটিয়া খুনিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, কাশিয়ানী এম.এ.খালেক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের মোঃ ইবাদুল ইসলামের মেয়ে ফারাজানা ইসলাম কেয়ার সাথে গোপালগঞ্জ জেলা শহরের (গেইটপাড়ার) কাজি মজিবর রহমানের ছেলে কাজি মোঃ আরিফ হোসেনের সাথে নয় বছর পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ চলে আসছিলো।

নিহত কাজি আরিফ হোসেনের স্ত্রী ফারজানা ইসলাম কেয়া (৩২) তার দুরসর্ম্পকের মামা সৈয়দ আলী খানের ছেলে রায়হান মাহমুদ (৩৫) এর সাথে যোগাযোগ করে। মামা রায়হান মাহমুদ ঘটনার রাতে (রবিবার রাতে) খুলনা জেলার দৌলতপুর দেওয়ানা দক্ষিণপাড়া থেকে দুইজন খুনিকে ভাড়া করে নিয়ে কেয়াদের বাড়িতে অবস্থান নেয়। ফারজানা ইসলাম কেয়ার স্বামী কাজি আরিফ হোসেন (৪৫) কে পিতার বাড়িতে ঘরের ভিতরে ফেলে পিটিয়ে হত্যা করে।

পুলিশ সোমবার সকালে লাশে সুরাতহাল রির্পোট শেষে লাশ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মর্গে পাঠায়। হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে ফারজানা ইসলাম কেয়া (৩২) এবং কেয়ার পিতা সহযোগী অধ্যাপক মোঃ ইবাদুল ইসলাম (৫৬) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে।

কাশিয়ানী থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আজিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কাজি আরিফের স্ত্রী ফারজানা ইসলাম কেয়া হত্যাকান্ডের সকল বিষয় স্বীকার করেছে। তার স্বীকার উক্তি মোতাবেক মুকসুদপুর সার্কেলের সিনিয়র এ.এস.পি হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান ও মামলার তন্তকারি এস.আই মোঃ ফারুক হোসেনকে নিয়ে তিনি খুলনা জেলার দৌলতপুর দেওয়ানা দক্ষিণপাড়ায় অভিযান চালিয়ে কাজি আরিফ হত্যাকান্ডে জড়িত খুনি মোঃ ফারুক মোড়লে ছেলে মোঃ তন্নয় হোসেন মোড়ল (২০) গ্রেফতার করেছেন। তন্নয় মোড়ল প্রাথমিক ভাবে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

মামলার তদন্তকারি অফিসার এস.আই মোঃ ফারুক হোসেন জানায়,নিহত কাজি আরিফ হোসেনর ভাই মোঃ কাজি গালিব হোসেন বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় ৩০২/৩৪ ধারায় নয়জনকে আসামী একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। অন্যান্য আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy