খেলাধুলা

মিরাজের রেকর্ড ভাঙতে তাইজুল এর প্রয়োজন আর মাত্র একটি উইকেট।

ঢাকা টেস্ট জিততে হলে বিশ্ব রেকর্ড গড়তে হবে জিম্বাবুয়েকে। শেষ দিনে ৭ উইকেটে ৩৬৭ রান করতে হবে জিম্বাবুয়েকে। ঢাকা টেস্টের শেষ দিনে বাংলাদেশকে প্রথম উইকেট তুলে দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। দলীয় ৯৯ রানের মাথায় ১৩ রান করা শন উইলিয়ামসকে ক্লিন বোল্ড আউট করেন মোস্তাফিজুর রহমান। এরপর দলীয় ১২০ রানের মাথায় সেকেন্দার রাজা কে নিজের বলে নিজেই ক্যাচ আউট করেন তাইজুল ইসলাম।

এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪ উইকেটে ১৬১ সংগ্রহ করছে জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক বাংলাদেশের স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। আর মাত্র একটি উইকেট লাভ করলেই মেহেদি হাসান মিরাজ কেটে ফেলবেন তাইজুল ইসলাম।

নিজের অভিষেক সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯ উইকেট নিয়েছিলেন মেহেদী মিরাজ। এই মুহূর্তে তাইজুল ইসলামের উইকেট ১৮ টি। আজ যদি আরেকটু উইকেট নিতে পারেন তাহলে ছুঁয়ে ফেলবেন মিরাজকে এবং দুটি উইকেট লাভ করলে মেহেদি হাসান মিরাজকে পিছনে ফেলে বাংলাদেশের হয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক এর মালিক হবেন তাইজুল।
৩ উইকেট নিতে পারলে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে টানা চার ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়বেন।

টানা তিন ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তিতে এনামুল জুনিয়র আর সাকিব আল হাসানকে ধরেই ফেলেছেন এর মধ্যে। আর যদি ৭ উইকেট নিতে পারেন? তাহলে তো বিশ্ব রেকর্ডই হয়ে যায়!

গতকাল চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে জিম্বাবুয়ে ইনিংসের ২৩তম ওভারের শেষ বলে ওপেনার হ্যামিল্টন মাসাকাদজাকে (২৫) মুমিনুলের ক্যাচ বানিয়ে টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরান অফ স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজ। দলীয় ৬৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

এরপর ২৬ ওভারে বল করতে এসে চতুর্থ বলে আরেক জিম্বাবুইয়ান ওপেনার চারিকে (৪৩) লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে বিদায় করেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। যদিও আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেছিলেন চারি, কিন্তু থার্ড আম্পায়ারও রিপ্লে দেখে আউটের সিদ্ধান্ত দেন।

জিম্বাবুয়েকে ফলো-অনে ফেলে গতকাল ২১৮ রানে এগিয়ে দিন শেষ করে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনে শুরুতেই ব্যাটিংয়ে নামে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। দলীয় ১০ রানের মাথায় টপ অর্ডার ৩ ব্যাটসম্যানকে হারায় বাংলাদেশ।

ইমরুল কায়েস ৩, লিটন দাস ৬, এবং মমিনুল হক ১ রান করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন। গত ম্যাচে ডাবল সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিম ফেরেন দলীয় ২৫ রানের মাথায়। ৭ রান করে আউট হন তিনি। বিপদে পড়া বাংলাদেশ দলের হাল ধরেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ এবং মোহাম্মদ মিঠুন।

৯১ বলে নিজের অভিষেক হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মোহাম্মদ মিঠুন। এই দুজনের ১৩৮ রানের পার্টনারশিপ ভাঙ্গেন সিকান্দার রাজা। ৬৭ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মোহাম্মদ মিঠুন। এরপর ৫ রান করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন আরিফুল হক। ১২২বলে সেঞ্চুরি করে ৯ বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এটি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের টেস্ট ক্রিকেটের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

দ্বিতীয় বাংলাদেশি অধিনায়ক হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। আগে বাংলাদেশের হয়ে অধিনায়ক হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। শ্রীলংকার বিপক্ষে তিনি করেছিলেন ১০১ রান। ৬ উইকেটে ২২৪ রান ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। মাহমুদুল্লাহ ১০১ এবং মেহেদি হাসান মিরাজ ২৭ রান করে অপরাজিত থাকেন।

প্রথম ইনিংসে ব্যাট করছে বাংলাদেশ ৫২২ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। মুশফিকুর রহিম ২১৯ এবং মমিনুল হক ১৬১ রান করেন। জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে করে ৩০৪ রান।