জাতীয়

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদার জীবনযাত্রা অনেকখানি বদলে গেছে

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদার জীবনযাত্রা অনেকখানি বদলে গেছে। কারাবন্দি হওয়ার পর আর রাত জাগছেন না। আবার খুব সকালে ঘুম থেকে উঠছেন। নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, নামাজ আদায়, পত্রিকা পড়ে সময় কাটছে তার।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি হওয়ার পরও একই নিয়মে চলছেন তিনি। এদিকে তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড সদস্যদের প্রথমে সহযোগিতা করেননি খালেদা জিয়া। তবে এখন চিকিৎসা নিচ্ছেন। হাসপাতালে খোঁজখবর নিয়ে এমনটাই জানা গেছে।

প্রথমে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও এখন আর তা করা হচ্ছে না। তবে বিএনপি নেত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী এবিএম আবদুস সাত্তার জানান, তার স্বাস্থ্যের বিষয়ে তারা একেবারে অন্ধকারে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উচিত তার স্বাস্থ্যের সবশেষ পরিস্থিতি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীকে জানানো।

গত ৬ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বিএসএমএমইউতে ভর্তি করা হয়। তাকে রাখা হয়েছে কেবিন ব্লকের ষষ্ঠ তলার ৬১১ নম্বর কেবিনে। পাশের ৬১২ নম্বর কেবিনটিও তার জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারাবন্দি হওয়ার পর থেকে অনেক পরিবর্তন এসেছে খালেদা জিয়ার মধ্যে। চলমান বাস্তবতার সঙ্গে তিনি খাপ খাইয়ে চলার চেষ্টা করছেন। আগে প্রায় সারা রাত জাগলেও এখন রাত ১১টার মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে উঠে নামাজ শেষে কোরআনের বাংলা তর্জমা পড়েন। এরপর নাস্তা করে পত্রিকা দেখেন। এরই মধ্যে মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা এসে তাকে পরীক্ষা করেন। দুপুরের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, প্রথমে তিনি অসুস্থ হলে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তি করতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি রাজি হননি। পরে একপর্যায়ে তাকে বিএসএমএমইউতে নেওয়া হয়। সেখানে তার কিছু টেস্ট করা হয়। তবে তখন তার স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়নি। পরে আদালতের নির্দেশ এবং স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি রাজি হন।

জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির পর ফিজিওথেরাপি দেওয়ার জন্য যাকে প্রথম পাঠানো হয়েছিল তাকে ফিরিয়ে দেন খালেদা জিয়া। জানতে চান তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ কি না। পরে অন্য একজনকে পাঠানো হয়। তার কাছেই এখন নিয়মিত থেরাপি নিচ্ছেন বিএনপি নেত্রী। তবে রক্ত দেওয়া, ইনজেকশন নেওয়া ও ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ভাগ্নে ডা. মামুনের ওপর অনেকটা নির্ভর করছেন খালেদা। এজন্য বোর্ড সদস্যদের সঙ্গে ডা. মামুনকে সব সময় দেখা যায়।

গতকাল দুপুরে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুনসহ বোর্ডের সদস্যরা খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়েছিলেন। পরে পরিচালক তার রুমে বোর্ড সদস্যদের নিয়ে সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করেন।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়নি। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর যেমন ছিলেন এখন তেমনই আছেন। শিগগিরই তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মাঝেমধ্যে বাইরের খাবার খেতে চাইছেন খালেদা জিয়া। এ বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক জানান, কারাবিধি অনুযায়ী তাকে খাবার দেওয়া হচ্ছে। তার খাবার-দাবারের বিষয়ে খুব সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।