খেলাধুলা

ব্রাভো বলছেন এমন অবস্থায়ও বিসিসিআই উইন্ডিজ ক্রিকেটারদের সমস্যা বুঝতে পেরেছিল, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই

স্পোর্টস ডেস্ক: ২০১৪ সালে ভারতের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সফরের মাঝপথে এভাবে সিরিজ বাতিল হওয়ায় বড় অঙ্কের ক্ষতির সামনে পড়ে ভারতীয় বোর্ড।

তবে ব্রাভো বলছেন এমন অবস্থায়ও বিসিসিআই উইন্ডিজ ক্রিকেটারদের সমস্যা বুঝতে পেরেছিল, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। ওরা সমস্যাটা বুঝতে পেরেছিল। কারণ, ওরা আমাদের সমর্থন করছিল। এমনকি আমরা যে অর্থ হারাচ্ছি (চুক্তি নিয়ে বনিবনা না হওয়ায়), সেটাও দিতে চেয়েছে তারা।’

ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর রেডিও স্টেশন আই নাইনটি ফাইভ পয়েন্ট ফাইভকে ব্রাভো তাদের বিস্ময়ের কথাও জানিয়েছেন, ‘আমরা অবাক হয়ে বলেছি, “আমরা তোমাদের অর্থ চাই না।” আমরা চাই, আমাদের বোর্ড চুক্তি সংক্রান্ত ঝামেলার সমাধান করুক।’

ভারতীয় বোর্ডের এমন সহানুভূতিই ওই সময়ে ক্রিকেটারদের খেলায় মনোযোগ দিতে সাহায্য করেছিল বলে জানাচ্ছেন ব্রাভো, ‘বিসিসিআই অনেক সহানুভূতিশীল ছিল। এই কারণেই আমাদের অধিকাংশই খেলতে পারছিল, কোনো বড় সমস্যা সৃষ্টি হয়নি।’

৩৫ বছর বয়স্ক ব্রাভো গত অক্টোবরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে নিয়েছেন। এ কারণেই হয়তো ২০১৪ সালের সেই সিরিজের বাকি ঘটনাও অকপটে জানাতে পারছেন ব্রাভো, ‘আমার এখনো মনে আছে, প্রথম ম্যাচের আগে বলেছিলাম আমরা খেলতে পারব না। রাতের তিনটায় বিসিসিআইয়ের প্রধান, আগের জনের কথা বলছি শ্রীনিবাসন একটা মেসেজ পাঠালেন, প্লিজ মাঠে নামুন।’

‘আমি তাঁর কথা শুনলাম এবং ভোর ছয়টায় ঘুম থেকে উঠে দলের সবাইকে বললাম, “আমাদের খেলতে হবে।” দলের সবাই খেলার বিপক্ষে ছিল। সবাই ভেবেছিল আমি চাপে ভেঙে পড়েছি এবং হার স্বীকার করে নিয়েছি।’

এর পরের সিদ্ধান্ত পুরো দল মিলেই নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ব্রাভো, ‘সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি কী করব। সবার কথা আলাদাভাবে শুনেছি। একজন বাদে বাকি সবাই একটি কাগজে সই করেছিলাম, সবার সিদ্ধান্ত ছিল সফর থেকে ফিরে আসার। কিন্তু আমরা সফর ফেলে আসিনি। আমরা বেশ কয়বার ডব্লুআইপিএ সভাপতি (ওয়েভেল হাইন্ডস) এবং ক্রিকেট সভাপতির (ডেভ ক্যামেরন) সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। আমরা হুমকি দিয়েছিলাম, প্রথম ম্যাচ খেলব না, কিন্তু খেললাম না। দ্বিতীয় ম্যাচের আগেও না খেলার হুমকি দিয়েছি, কিন্তু সেটাও খেললাম।’-প্রথম আলো