রাজনীতি

‘সরকার সংবিধানের কথা বললে আমার হাসি পায়’

 

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কোনো অবস্থাতেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করবে না বলে জানিয়েছেন ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

আজ শনিবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে আয়োজিত আইনজীবী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। এ সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন বলেছেন, একবার নির্বাচন বর্জন করে ভুগতে হয়েছে। তাই কোনো অবস্থাতেই এবার নির্বাচন বর্জন করবে না জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

তিনি বলেন, কাকে তোমরা সংবিধান দেখাচ্ছো? সংবিধানের প্রথম লাইনে সংবিধান লেখা আছে। এরপরে আর কোনো লাইন তারা যে পড়ে আমার তা মনে হয় না। পড়লে এভাবে সংবিধান করতো না। পড়লে দেখবে যে, তোমরা একেকটা বিধান লঙ্ঘন করছো।

মন্ত্রী যে বলা হচ্ছে, এরা কারা? উপদেষ্টা, এরা কারা? তারপর যাদেরকে মেম্বার বলা হচ্ছে, তারা কারা এমন প্রশ্ন তোলেন সংবিধান প্রণেতা।

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার প্রসঙ্গ টেনে কামাল হোসেন বলেন, ষোড়শ সংশোধনীতে সাতজন বিচারপতি মিলে একটা রায় দিলেন কিন্তু কথা শুনতে হলো সিনহা সাহেবকে। এত লজ্জা আমি জীবনে পাইনি, যে দিন দেখেছি কোনো এক মন্ত্রী যিনি প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে বলেছিলেন ‘তোকে কে নিয়োগ দিয়েছিল?’

‘তোকে কে নিয়োগ দিয়েছে?’ একজন প্রধান বিচারপতিকে কেউ এভাবে বলতে পারে না। সে যেই হোক। যে এসব কথা বলেছে তার আদালত অবমাননা এখনও হতে পারে বলেও তিনি জানান।

কামাল বলেন, যে ব্যক্তি এসব কথা বলেছে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করতে পরামর্শ দেন তিনি। এসব বিষয়ে হালকাভাবে নেয়া উচিত না। আজ হোক, কাল পরশু যে দিনই হোক এসব বলে কেউ পার পাবে না।

তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্যি, গত পাঁচ বছর দেশ যেভাবে শাসিত হয়েছে এটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, আমি জানি না।

সরকারের সমালোচনা করে প্রবীণ এ আইনজীবী বলেন, ‘সরকার সংবিধানের কথা বললে আমার হাসি পায়। এই সরকারের ক্ষমতায় থাকাই অসাংবিধানিক। দিনে-রাতে নিজেরা সংবিধান লঙ্ঘন করছে। আর আমাদের সংবিধান দেখাচ্ছে।’