রাজনীতি

চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ১৬ আসনের অধিকাংশের মনোনয়ন নিয়ে টেনশনে রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা

চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ১৬ আসনের অধিকাংশের মনোনয়ন নিয়ে টেনশনে রয়েছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে সংগঠিত হওয়ার কারণে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রার্থীগণের দুশ্চিন্তা বেড়ে গেছে। আবার জোটের বা ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী নেই এমন আসনেও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সংখ্যাধিক্যের কারণে মনোনয়নের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছেন না। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মহাজোটের যারাই মনোনয়ন পেয়েছিলেন তারাই নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু গত ৫ বছরে তাদের স্থানীয় পর্যায়ে কর্মকাণ্ড এবং জনসম্পৃক্ততাসহ সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মনোনয়ন দেয়ার ঘোষণা দেয়ায় প্রার্থিতা নিয়ে অনেকেই টেনশনে পড়ে গেছেন বলে নেতা-কর্মী সূত্রে জানা যায়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসায় আওয়ামী লীগ বিভিন্ন আসনে প্রার্থী মনোনয়নে আরো বেশি চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে। ফলে ১৪ দল বা মহাজোটের পক্ষ থেকে এবার মনোনয়ন পাওয়া আগেকার যে কোনো সময়ের তুলনায় অনেক কঠিন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলসহ মহাজোট থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে ১৬টি আসনের মধ্যে অন্তত অর্ধেক আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মনোনয়ন কনফার্ম করতে আরো অপেক্ষায় থাকতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সকল আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-২ (সীতাকুণ্ড) আসনে আওয়ামী লীগ ছাড়া জোটের তেমন উল্লেখযোগ্য প্রার্থী না থাকলেও দলের প্রার্থীর ব্যাপারে এখনও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। চট্টগ্রাম-৪ (ফটিকছড়ি) আসনে ২০১৪ সালে মনোনয়ন পান ১৪ দলের তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। এবার আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা তাদের দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। অপরদিকে নতুন করে ১৪ দলের সাথে বি. চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট যুক্ত হওয়ায় ওই দলের পক্ষ থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মাজহারুল হক শাহ চৌধুরীও প্রার্থী হওয়ার আশা পোষণ করছেন। ফলে ফটিকছড়ি আসনে মহাজোটের মনোনয়ন বেশ কঠিন হবে বলে জানা যায়।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী) আসনে ২০১৪ সালের প্রার্থী জাসদের একাংশের মঈনুদ্দিন খান বাদলের জায়গায় এবার আওয়ামী লীগের তিন হেভিওয়েট প্রার্থী মনোনয়ন চাচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন— প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমেদ এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম। তাই জোটের না দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। অনুরূপ চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে জাতীয় পার্টির এমপি জিয়াউদ্দিন বাবলু পুনরায় মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন নাকি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে তা নিয়ে চলছে ব্যাপক গুঞ্জন। চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ডা. আফসারুল আমিনের মনোনয়ন প্রাপ্তি এখনো দলীয় নেতা-কর্মীরা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। এ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য বিএনপির সাবেক সিটি মেয়র এম মনজুর আলম আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালানোর প্রেক্ষিতে ওই আসনের মনোনয়ন নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এমএ লতিফ পুনরায় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি পুনরায় মনোনয়ন পাবেন বলে তার সমর্থক নেতা-কর্মীরা আশা পোষণ করেন। একইভাবে চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনেও মহাজোটের তেমন কোনো প্রার্থী না থাকায় বর্তমান আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী পুনরায় মনোনয়ন পাবেন বলে তার সমর্থকদের অভিমত। তবে ওই আসন থেকে মনোনয়ন পাবার জন্য বিজিএমইএ সহ-সভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরীসহ আরো কয়েকজন চেষ্টা-তদ্বির চালাচ্ছেন। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের প্রফেসর আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী পুনরায় মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেও এখনও তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত নয় বলে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান। কারণ আরো একাধিক দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য নীতি-নির্ধারক পর্যায়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে জানা যায়। তাদের মধ্যে রয়েছেন— রূপালী ব্যাংকের পরিচালক আবু সুফিয়ান এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য আমিনুল ইসলাম। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান পুনরায় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু উক্ত আসনে এবার মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী। এলাকায় তার শক্ত অবস্থান থাকায় উক্ত আসন থেকে দলীয় না মহাজোটের প্রার্থী মনোনয়ন পাচ্ছেন তা এখনও নিশ্চিত নয়।

চট্টগ্রাম মহানগর ও জেলার ১৬ আসনে মহাজোটের ন্যায় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থিতা নিয়েও প্রার্থীদের মধ্যে টেনশন রয়েছে। সর্বশেষ ২০০৮ সালে এ ১৬টি আসন থেকে যারা মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবার তার অনেকগুলোর প্রার্থী পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই), চট্টগ্রাম-৪ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী), চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া), চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি টেনশন রয়েছে। এ সকল আসনে নতুন প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের অভিমত। চট্টগ্রামের ১৬ আসনের মধ্যে বিগত ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি তাদের ২০ দলীয় শরীক জোটের মধ্যে এলডিপি’র প্রধান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) এবং জামায়াতে ইসলামীকে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া) আসন ছেড়ে দেয়। এবারও উক্ত দুটি আসন ছাড়াও চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে কল্যাণ পার্টির প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) ইব্রাহিমকে ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকের ধারণা।