বিনোদন

গত বছর নিজের শ্যালিকাকে নিয়ে পালিয়ে ছিলেন হিরো আলম

ইউটিউবে বিচিত্র অভিনয়, গান আর নাচ দেখিয়ে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনায় আসা হিরো আলমের মনোনয়ন কেনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার ঝড় বইছে। নিজেকে অভিনেতা ও মডেল হিসেবে পরিচয় দেয়া বহুল আলোচিত-সমালোচিত এই হিরো আলম ওরফে আশরাফুল আলম জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়ার পর থেকে হিরো আলমকে মিডিয়ার বিভিন্ন টকশো থেকে শুরু করে টিভি অনুষ্ঠানগুলোতে অতিথি হিসেবে দেখা যায়। হিরো আলমের অতীত খুঁজতে তার নিজ বাড়ি বগুড়ায় গেলে জানতে পাওয়া যায় হিরো আলমের বিস্তারিত পরিচয়।

বাড়িতে গিয়ে দেখা মিলে হিরো আলমের বাবা আব্দুর রাজ্জাক (সৎ বাবা), মা আশরাফুন বেগম, স্ত্রী সাবিহা আক্তার সুমি, বড় মেয়ে ২য় শ্রেণির ছাত্রী আলোমনি, মেজ মেয়ে ১ম শ্রেণির ছাত্রী আঁখি আলো এবং ৪ বছরের ছেলে আবির হোসেনের সঙ্গে।

হিরো আলমকে নিয়ে প্রশ্ন করলে তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক জানায়, ওর বাবা আহম্মদ মারা গেলে আমি আশরাফুন বেগমকে বিয়ে করি। এরা তিন বোন এক ভাই। নিজের ছেলেমেয়ের মতোই তাদের মানুষ করেছি। মেয়েগুলোর বিয়ে হয়ে গেছে। আলমের ডিশের ব্যবসা রয়েছে।

হিরো আলমের বাবা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ওর বাবা আহম্মদ মারা গেলে আমি আশরাফুন বেগমকে বিয়ে করি। এরা তিন বোন এক ভাই। নিজের ছেলে-মেয়ের মতোই তাদের মানুষ করেছি। মেয়েগুলোর বিয়ে হয়ে গেছে। আলমের ডিশের ব্যবসা রয়েছে। এই ব্যবসাটি মূলত সেই দেখাশুনা করে। আলম ইচ্ছে মতো টাকা উড়ায়। মিউজিক ভিডিও বানানোর নামে রাতদিন পড়ে থাকে নানা জায়গায়। বাড়িতে বাবা-মা, স্ত্রী সন্তানদের কোনো খোঁজ রাখে না।

হিরো আলমকে নিয়ে এরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মন্ডল বলেন, এক বছর আগে ওর শালি (স্ত্রীর ছোট বোন) বিলকিসকে নিয়ে পলাসলো। সেই বিচার করে দেয়া লাগছে। আর বিচারতো হামাক মাঝে মধ্যেই করা লাগে। ট্যাকা লিয়্যা দুই একদিন পরপরই ঝামেলা লাগায়। তারপরেও এলাকার ছ্যোল, ভালোই আছলো। তাই ক্যামা আবার লির্বাচন করিচ্ছে। আসলে মাতা পাগলা হলে ইংকাই হয়। এটি মেম্বরত উটবার পারেনি। আবার জাতীয় লির্বাচন। আসলে এনা ট্যাকা হচে তো। গরমে থাকপার পারিচ্চে না।

হিরো আলমের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকার তরুণ প্রজন্ম হিরো আলম সম্পর্কে জানলেও আসলে প্রবীণরা তাকে চেনেই না।

নন্দীগ্রাম উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হাজ্বী নূরুল আমিন বাচ্চু বলেন, নির্বাচনী এলাকায় হিরো আলমের কোনো জনপ্রিয়তা নেই। তাকে কেউ চেনেই না। আর হিরো আলমকে মনোনয়ন দেয়ার প্রশ্নই উঠে না। কাহালু উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ইব্রাহিম আলী ধুলু বলেন, কে এই হিরো আলম। এটা কি যাত্রা পার্টি নাকি? নাচ গান করলেই মনোনয়ন পেয়ে যাবে। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে হিরো আলমের কোনো যোগাযোগ নেই। হঠাৎ করেই মনোনয়ন তুলেছে পত্রিকা-টিভিতে দেখছি। তাকে তরুণ প্রজন্ম ভালো চিনতে পারে। কিন্তু ইউটিউব, ফেসবুক আর ভোটের মাঠ এক কথা নয়।