অন্যান

চ্যালেঞ্জ, আমার চেয়ে ভালো বল করতে পারলে খেলাই ছেড়ে দেবো

২০০৫ সালে টেস্টে অভিষেক। তাও আবার যেনো তেনো জায়গায় নয়, লর্ডসের মতো মাঠে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পান ২০০৬ সালে। বলছি শাহাদাত হোসেন রাজীবের কথা। রঙিন পোশাকের ক্রিকেটে খুব একটা সুযোগ পাননি। তবে সাদা পোশাকে একটা সময় দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। চোটপ্রবণ মাশরাফি বিন মর্তুজার সময়ে কখনো কখনো শাহাদাতই ছিলেন বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সেরা ভরসা।

sahadat hossain and mashrafee mortaza

কিন্তু সেই সময়টা হারিয়ে গেছে অনেক আগেই। নিজেরও দায় আছে তাতে। শেষ টেস্ট খেলেছেন ২০১৫ সালের মে মাসে। ওই বছরের অক্টোবরেই গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে জেলে পর্যন্ত গেলেন। জেলে যেতে হয়েছিল তার স্ত্রীকেও। তখনকার পরিবেশ কতোটা কঠিন ছিল সেটা অল্প অনুমানেই বুঝা যায়।

ওই পরিবেশ হয়তো শাহাদাতকে অনেক কিছু শিখিয়েছেও! জেল থেকে বেরিয়েই বল নিয়ে অনুশীলনে নেমে পড়েছিলেন। ওই অবস্থা থেকে নিজেকে গড়ার চেষ্টা করেছেন ৩২ বছর বয়সী পেসার। সফলও হয়েছেন, গত জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) পাঁচ ম্যাচ খেলে নিয়েছিলেন ১৭ উইকেট। এমন পারফরম্যান্সের পর শাহাদাতের সঙ্গে নাকি কথা বলেছেন নির্বাচকরাও।

sahadat hossain bcl

অাশ্বাস দিয়েছিলেন কদিন পর শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) দুর্দান্ত কিছু করতে পারলে ফেব্রুয়ারির নিউজিল্যান্ড সফরে বিবেচনা করা হবে তাকে। কিন্তু আশ্চর্য, বিসিএলে দলই পেলেন না শাহাদাত! কোনো দলই কিনেনি তাকে। হতাশায় রীতিমতো ভেঙে পড়েছেন দীর্ঘদেহী পেসার।

দল না পাওয়াতে কতোটা কষ্ট পেয়েছেন শাহাদাতের কথাতেও সেটা ফুটে উঠল। গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাহাদাত বলেছেন, ‘আমরা যারা সিনিয়র ক্রিকেটার রয়েছি তারা এখনও বুড়ো না। আর আমি এখনও চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি যে কোনো ফাস্ট বোলার আমার চেয়ে যদি ভালো বল করতে পারে তাহলে আমি খেলা ছেড়ে দেবো। আমি চ্যালেঞ্জ করলাম। আর সেরকম সক্ষমতা যদি আমার না থাকতো তাহলে আমি আগে থেকেই ক্রিকেট খেলতাম না। আমি তো এখনও প্রায় ১৪০ কিমি বেগে বল করছি। বয়সও বেশি না। ভালো জায়গায় বল করছি, ফিটনেস ভালো রয়েছে তাহলে কেন সুয়োগ পাবো না?’

শাহাদাত বলেন, ‘অনেক বড় একটা হতাশা। বিশ্বাস ছিল কেউ না কেউ আমাকে দলে নেবে। ভেবেছিলাম কোনো ফাস্ট বোলারকে যদি নেয়া হয় তাহলে হয়তো আমি সুযোগ পাবোই।