খেলাধুলা

বোলারদের ব্যাটে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ! দেখে নিন ম্যাচের সর্বশেষ স্কোর

একটা সময় মনে হয়েছিল আড়াইশ রান করতেই কষ্ট হয়ে যাবে বাংলাদেশের জন্য। কিন্তু সেটা তো হলই, যেটা অসম্ভব বলে মনে হয়েছিল, সেই ৩০০ রানের গন্ডিও পার হল অনায়াসেই। তার মধ্যে আবার দিন শেষে আরও দুটি উইকেট এখনো বাকি আছে বাংলাদেশের যারা আগামীকাল আবারও ব্যাটিংয়ে নামবেন।

বাংলাদেশের রান ৩০০ পার করার নায়ক দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম (৩২) ও নাঈম হাসান (২৪)। এই্ দুজনে নবম উইকেট জুটিতে ৫৬ রান যোগ করেছেন। আগামীকাল আবারও ব্যাটিং করতে নামবেন তারা।

এর আগে ওয়েষ্টইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেষ্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ দল। আর ব্যাটিংয়ে নেমেই সৌম্য সরকার আউট হয়ে ফিরেন। কেমার রোচের করা দিনের প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই উইকেট কিপারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সৌম্য সরকার।

সৌম্যর পর ব্যাটিংয়ে নামে মুমিনুল হক। তিনি জুটি বাধেন আরেক তারকা ইমরুল কায়েসের সাথে। দারুন খেলতে শুরু করা ইমরুল কায়েসও ফিরে যেতে পারতেন মাত্র ৫ম ওভারেই।

এবারও কেমার রোচের করা ওভারের চতুর্থ বলে স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন ইমরুল। তবে তার ভাগ্য ভালো যে স্লিপে দাড়ানো ক্যারিবিয় তারকা হাতে আসা ক্যাচ মাটিতে ফেলেদেন।

তবে এটাই শেষ নয়, ইনিংসের ১৩তম ওভারে ওয়ারিকানের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে ক্যাচ তুলে দেন ইমরুল কায়েস। এবার ফিল্ডার ক্যাচ মিস না করলেও রিপ্লেতে দেখা যায়, বোলারই নো বল করেছিলেন। ফলে দলীয় ৪৭ রানের মাথায় আরেকবার বেঁচে যান ইমরুল কায়েস।

তবে শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারেনি ইমরুল কায়েস। দলীয় ১০৫ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪৪ রান করে ওয়ারিকানের বলে সুনিল অ্যামব্রিসের কাছে ক্যাচ দিয়ে ফিরে আসেন ইমরুল। আর ইমরুলের আউটের সাথে সাথেই মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দেয়া হয়।

বিরতি থেকে ফিরে ৩৫তম ওভারে দেবেন্দ্র বিশুর বলে ক্যাচ তুলেন মুমিনুল। তার ব্যাটের কোনায় লেগে বল যায় কিপারের কাছে। কিপারের থেকে যায় স্লিপে দাড়ানো ফিল্ডারের কাছে। তবে মিস করেন দুজনেই।

মুমিনুলকে না পেলেও মিঠুনের উইকেট তুলেনেন বিশু। দলীয় ১৫৩ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ২০ রান করে আউট হন মিঠুন।

মিঠুনের পর সাকিব আল হাসানের সাথে জুটি বাধেন মুমিনুল। এই জুটিতেই মুমিনুল তুলেনেন নিজের অষ্টম সেঞ্চুরি। তবে সেঞ্চুরি করে বেশিদূর যেতে পারেনি এই লিটল জিনিসিয়াস। ব্যক্তিগত ১২০ রানের মাথায় গ্যাব্রিয়েলের অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালাতে গিয়ে কিপারের কাছে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন তিনি।

মুমিনুলের বিদায়ের পর গ্যাব্রিয়েল আবারো হ্যাটট্রিক আঘাত হানেন টাইগার শিবিরে। প্রথমে মুশফিককে (৪) এলবি করে ফেরানোর পর বোল্ড করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে (৩)। এরপর থিতু হওয়া সাকিব আল হাসানকেও বোল্ড করে ফেরত পাঠান এই গতি দানব।

দেখতে দেখতে ২২৩ রানে তিন উইকেট থেকে ২৩৫ রানে সাত উইকেটে পরিণত হয় বাংলাদেশ।

এরপর মিরাজের সাথে মিলে অভিষিক্ত নাইম এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশকে। তারা এই জুটিতে বাংলাদেশ ২৫৯ রানে পৌছানোর পর বোল্ড হয়ে যান মিরাজ। পতন হয় অষ্টম উইকেটের।

তবে এরপর বাংলাদেশের আশীর্বাদ ও ওয়েস্টইন্ডিজের চোখের জল হয়ে মাঠে আসেন তাইজুল। দুই স্পিনার অভিষিক্ত নাঈম ও তাইজুল ইসলামের ব্যাটে ৩০০ রান স্পর্শ করে বাংলাদেশ। অবিচ্ছিন্ন এই জুটিতে বাংলাদেশ দিন শেষ করে ৩১৫ রান নিয়ে।