খেলাধুলা

প্রাণপণ চেষ্টা করেও বাংলাদেশকে একটি ম্যাচ হারাতে পারলাম নাঃ জেসন হোল্ডার

উইন্ডিজদের হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতেছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। ৬টি ফাইনালে হারার পর সপ্তম ফাইনালে এসে ক্যারিবিয়ানদের ৫ উইকেটে হারিয়েছে টাইগাররা।

এদিন বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন সৌম্য সরকার এবং মোসাদ্দেক হোসেন। এই দুজনের ফিফটিতেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাতে সক্ষম হয়েছে লাল সবুজের দলটি। বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস গড়ার দিন টুইটারে প্রশংসায় ভেসেছে বাংলাদেশ দল।

মাশরাফি বলেছিলেন, একটি শিরোপা বাংলাদেশের ক্রিকেটকে একধাপ এগিয়ে দিবে। অবশেষে প্রতিক্ষীত সেই শিরোপা ঘরে তুলল বাংলাদেশ। সাতবার ফাইনাল ফাইনাল খেলা বাংলাদেশ অবশেষে জিতল ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা। পুরো সিরিজে দুর্দন্ত খেলা টাইগারদের এদিন লড়তে হয়েছে শুধু উইন্ডিজের বিপক্ষেই নয়, আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে উইন্ডিজকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মত কোনো পূর্ণ সদস্য দলের বিপক্ষে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ জাতীয় দল।

নিজেদের ইতিহাসে এটি টাইগারদের দ্বিতীয় ত্রিদেশীয় সিরিজ জয় এবং টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে প্রথম ফাইনাল জয়, সপ্তমবারের প্রচেষ্টায়। এই ফাইনাল তাই সত্যিকার অর্থেই ‘লাকি সেভেন’ থাকল।

ডাবলিনের বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশ শিরোপা জিততে পারত আরও আগেই। সেক্ষেত্রে অবশ্য ‘পণ্ড’ হতে হত ফাইনালকে। বৃষ্টির অবিরত ধারায় সেই লক্ষণই প্রকাশ পাচ্ছিল। তবে ‘ফাইনাল’ ম্যাচের ‘মর্যাদা’ রক্ষায় হাল ছাড়েননি ম্যাচ অফিসিয়াল ও দুই দলের ক্রিকেটাররা। দফায় দফায় হানা দেওয়া বৃষ্টি থেমেছে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর। ম্যাচ তাই গড়িয়েছে কার্টেল ওভারে।

২১.১ ওভারে বিনা উইকেটে ১৩১ রান সংগ্রহ করা ক্যারিবীয়রা বৃষ্টি থামলে আবারো ব্যাট করতে নামে। ইনিংসের দৈর্ঘ্য ততক্ষণে কমে হয়েছে ২৪ ওভার। আরও ২৩ বলের মোকাবেলা শেষে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ১৫২ রান। ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১০ রান। শাই হোপের ৭৪ ও সুনীল আমব্রিসের ৬৯ রানের অপরাজিত ইনিংসের পর ১৪৪ বলে ২১০ রান তুলে নেওয়া সহজ ছিল না। তবে দলকে জয়বঞ্চিত থাকতে হয়নি ফর্মের তুঙ্গে থাকা ওপেনার সৌম্য সরকারের ঝড়ো ইনিংসের কারণে।

দলীয় ৬০ রানের মধ্যে ওপেনার তামিম ইকবাল (১৮) ও ওয়ান ডাউনে নামা সাব্বির রহমানকে (০) হারানোর পর আরও কঠিন হয়ে যায় সৌম্যর কাজ। তবে মারকুটে ভঙ্গিতে ব্যাট চালাতে থাকা সৌম্য দলের রানের গতি কমতে দেননি। তৃতীয় উইকেটে দুজনে গড়েন ৪৯ রানের জুটি। ৯টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৪১ বলে ৬৬ রান করা সৌম্য বিদায় নেওয়ার খানিক পর মুশফিকও সাজঘরে ফেরেন, ২টি করে চার-ছক্কায় ২২ বলে ৩৬ রান করে।

দুজনের বিদায়ের পর সাজঘরে ফেরেন মোহাম্মদ মিঠুনও। এরপর দল চাপে পড়ে গেলেও সেই চাপ জয় করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোসাদ্দেক হোসেন। শেষপর্যন্ত তারা দুজনই নিশ্চিত করেন দলের প্রথম ফাইনাল জয়। মোসাদ্দেক ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন মাত্র ২৩ বলে।

মোসাদ্দেক ২টি ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ২৪ বলে ৫২ এবং রিয়াদ ২১ বলে ১৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশ জয় পায় ৭ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই। ক্যারিবীয়দের পক্ষে শ্যানন গ্যাব্রিয়েল ও রায়মন রেইফার শিকার করেন দুটি করে উইকেট।

ম্যাচ শেষে জেসন হোল্ডার বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্বে আরও উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশ এখন পুরোপুরি শক্তিশালী একটি দল। এখন যেকোনো দলকে হারাতে সক্ষম বাংলাদেশ দল। আমরা অনেক চেষ্টা করেও বাংলাদেশকে একটি ম্যাচও হারাতে পারলাম না।’

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More

Privacy & Cookies Policy