আন্তর্জাতিক

ভারতের ভিতরে ঢুকে রাস্তা বানিয়েছে চীন সেনারা, প্রমাণ দিল স্যাটেলাইট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের অরুণাচল রাজ্যের ভিতরে ঢুকে রাস্তা বানিয়েছে চীন। বিজেপি রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ তাপির গাওয়ের এই অভিযোগের প্রমাণ দিল স্যাটেলাইট। ভারত ও চীন সীমান্ত এলাকার উপগ্রহ চিত্রে তার প্রমাণ পেয়েছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

ওই এলাকার ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ভারতে অনুপ্রবেশ করে এক কিলোমিটার লম্বা একটি রাস্তা বানিয়েছে চীন। গত বুধবার ফেসবুকে এই অভিযোগ করেছিলেন অরুণাচল প্রদেশের বিজেপি সভাপতি ও সাংসদ তাপির গাও।

বলেছিলেন, ‘ভারতীয় সীমান্তের ৬০ কিলোমিটার ভিতরে অরুণাচলের আনজাও জেলায় রাস্তা ও কাঠের সেতু বানিয়েছে চীন। জায়গাটি অরুণাচলের চাগলাগাম এলাকার খুব কাছে। ভারত ও চীনের মধ্যে থাকা ম্যাকমোহন লাইন বা সীমান্তরেখা থেকে চাগলাগ্রামের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। এখন চিন যদি চাগলাগ্রাম থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে কোনও ব্রিজ বানায় তাহলে তারা আমাদের দেশে ইতিমধ্যেই ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার অনুপ্রবেশ করেছে।’

যদিও তার অভিযোগ ঠিক নয় বলে প্রথমে জানানো হয়েছিল ভারতীয় সেনার তরফে। বলা হয়েছিল, কোনও অনুপ্রবেশ ঘটেনি। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর কিছু বিতর্কিত এলাকায় দু’দেশের সেনা জওয়ানরা টহল দেয়। সেই সমস্ত টহলদারি দলই অনেক সময়ে সেতু বানায়।

সাংসদ যে জায়গাটির বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন অরুণাচলের চাগলাগামের ওই এলাকাটির উপর ভারতীয় সেনার নিয়মিত নজর রয়েছে। তবে সেখানে চীনের কোনও সেনা বা অসামরিক ব্যক্তির স্থায়ী উপস্থিতির প্রমাণ মেলেনি।

যদিও পরে ওই এলাকার উপগ্রহ চিত্র নিয়ে বিশ্লেষণ করেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। আর তাতেই ধরা পড়ে চিনের অনুপ্রবেশের বিষয়টি। এপ্রসঙ্গে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ আয়ার মিত্র জানান, মনে হয় তাপির গাওয়ের বক্তব্য ঠিক। শুধু বিশিং নয়, চাগলাগাম অঞ্চলেও সম্ভবত অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এমনিতে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিতর্ক হলে এক অপরের সীমানার কাছে জনবসতি তৈরির চেষ্টা করে। চীনও তাই করছে।

রাস্তাঘাট ও অন্যান্য পরিকাঠামো বানাচ্ছে। এর মানে তারা ভারতকে নতুন করে সীমারেখা টানতে বাধ্য করতে চায়। তবে এমপি তাপির গাও জানিয়েছিলেন, চীন ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকে বুলডোজার দিয়ে রাস্তা তৈরি করছে। সেনাবাহিনী সীমান্তে গিয়ে কোনও বুলডোজার খুঁজে পায়নি। মনে করা হচ্ছে বুলডোজারের মতো ভারী আর্থ মুভিং যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন