জাতীয়

নির্ধারিত সময়ে হচ্ছে না পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত সময় চলতি বছরের ডিসেম্বর। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ কোনোভাবেই শেষ করা যাচ্ছে না। তাই আরও দেড় বছর মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। সেখানে সময়সীমা ধরা হয়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। সে অনুযায়ী সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) মাধ্যমে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন ও বৈঠক করার কথা রয়েছে।আমাদের সময়

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতুটি চালু হলে ১০ মিনিটেই পাড়ি দেওয়া সম্ভব হবে বিশাল পদ্মা নদী। আর সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, এতে গাড়ি চলার কথা ২০২১ সালের জুনে। সেতু নির্মাণে সর্বশেষ সংশোধিত ব্যয় হচ্ছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। প্রথমে ২০০৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০১৫ সালের ৩০ জুন ধরা হয়েছিল মেয়াদ। এর পর দুই দফা মেয়াদ বাড়ে। এবার তৃতীয় দফায় বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৭৪ শতাংশ। তাই ব্যয় বৃদ্ধি ব্যতিরেকে মেয়াদ বাড়াতে হচ্ছে কিছু যৌক্তিক কারণে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

জানা গেছে, ২০১৮ সালের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হবে-এমন ঘোষণা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করতে না পারায় এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় ধরা হয়। তাতেও কাজ সম্পন্ন করতে না পারায় আবারও মেয়াদ বাড়াতে হবে। প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে পড়ার যুক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে চার কারণ। এর মধ্যে নদীর তলদেশে মাটির স্তর নরম হওয়াকে সেতু বিভাগের পক্ষ থেকে প্রথম কারণ হিসেবে দাবি করা হয়।

এতে বলা হয়, মূল নদীর ৪০টি পিয়ারের মধ্যে ২২টির পাইল নতুন করে ডিজাইন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি পিয়ারের জন্য বাড়ানো হয় একটি করে পাইল। একই কারণে আরও আটটি পিয়ারের পাইল ড্রাইভিংয়ের কাজও স্থগিত করতে হয়েছিল। যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে বেশ বেগ পেতে হয়। যদিও এরই মধ্যে সবকটি পাইলের ডিজাইন সংশোধন করে নির্মাণ নকশা (কনস্ট্রাকশন ড্রয়িং) ঠিকাদারকে সরবরাহ করা হয়েছে।

তাছাড়া সেতুর মূল অংশে সাতটি মডিউলে (নির্মাণকাজে ব্যবহৃত পরিমাণের একক) ৪১টি স্টিল ট্রাসের (সেতু ধরে রাখার কাঠামো) স্প্যান থাকে। প্রতিটি স্টিল ট্রাসের দৈর্ঘ্য ১৫০ মিটার। সেতুর কিছু অংশ সোজা, অনুভূমিক ও খাড়াভাবে বাঁক থাকায় স্টিল ট্রাসগুলো একটি নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে স্থাপন করতে হয়। ঠিকাদারের দেওয়া পরিকল্পনা অনুযায়ী সেগুলো তৈরি করা হয় চীনে।

আগের সিকোয়েন্স তথা ক্রমানুসারে মাওয়া সাইটে এনে এগুলোর সংযোজনও করা হচ্ছিল। কিন্তু ওই ২২টি পিয়ারের পাইলের নির্মাণ নকশা ঠিকাদারকে দিতে দেরি হওয়ায় সিকোয়েন্স অনুযায়ী স্টিল ট্রাস স্থাপন বাধাগ্রস্ত হয়। এ কারণে রেলওয়ে ডেক ও রোডওয়ে ডেক স্থাপনের কাজও দেরিতে শুরু করতে হয়েছে। অবশ্য বর্তমানে রেল ও রোড ডেক স্থাপনের কাজ চলমান।