অপরাধ জাতীয়

রিমান্ডে আবরারকে হত্যার বর্ণনা দিল হত্যাকারীরা!

গ্রেফতারের পর রিমান্ডে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবরারকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে গ্রেফতারকৃতরা। ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিজ কক্ষে পড়াশুনায় ব্যস্ত ছিলেন আবরার।

রাত ৮ টার দিকে আবরারকে হলের দোতলার ২০১১ নম্বর টর্চার সেলে ডেকে নিয়ে হুমকি দিতে থাকে বুয়েট ছাত্রলীগের নেতারা। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার আবরারের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ফেসবুক ঘেঁটে বাছ-বিচার না করেই হকি স্টিক দিয়ে পেটাতে শুরু করেন আবরারকে।

সেখানে অবস্থান করা সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিনও আরেকটি হকি স্টিক নিয়ে আবরারকে পেটানোতে অংশ নেন। ওই সময় ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন আবরারের হাত ধরে রাখেন। আর আবরারের পায়ে পেটাতে থাকেন উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল।

সদস্য মুনতাসির আল জেমি, মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইশতিয়াক মুন্নাও নির্দয়ভাবে পেটাতে শুরু করেন আবরারকে। কেউ হকি স্টিক দিয়ে, কেউ লাঠি দিয়ে, কেউ বা কিল-ঘুষি দিয়ে ইচ্ছামতো আবরারকে পেটানোতে অংশ নেন। এভাবে ২২ জন অংশ নেন এই ভয়ংকর নির্যাতনে।

এমন নির্যাতনের মধ্যেও আবরার বলেছিল, ‘আমাকে মের না আমি কোন অন্যায় করিনি’। আর তখনই তার মুখ চেপে ধরা হয়। এতে করে যন্ত্রণায় একটু কাঁদতেও পারেননি আবরার। মুখ বুজে সহ্য করেছেন অমানুষিক নির্যাতন।

এমতাবস্থায় টর্চার সেলে প্রবেশ করে বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল ও সহসভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ। তারাও পেটাতে শুরু করে নিস্তেজ প্রায় আবরারকে।

এতে এক পর্যায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আবরার। এভাবেই পুলিশের কাছে আবরারকে হত্যার বর্ণনা দিয়ছে আটককৃতরা। এ ব্যাপারে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্ত ও ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা ভিডিও ফুটেজে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবরার হত্যাকাণ্ডে জড়িত ১৯ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আবরারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের আইনবিষয়ক উপসম্পাদক ও পুরকৌশল বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা। কিন্তু তাকে গ্রেফতার বা মামলার আসামিও করা হয়নি। এছাড়া এ হত্যার ঘটনায় আরও তিনজন জড়িত আছে বলে তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা।