19.7 C
New York
May 24, 2020
এক্সক্লুসিভ

ইয়েমেনের নারীদের জানা ছিল না এমন ভয়ঙ্কর নির্যা’তন হয়!

ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রো’হী বাহিনীর হাতে অবর্ণনীয় নির্যা’তনের শি’কার হচ্ছেন ইয়েমেনের নারীরা। গণগ্রে’ফতার, হ’ত্যা, ধ’র্ষণ থেকে শুরু করে সব ধরনের দৈহিক ও মানুষিক নির্যা’তনের শি’কার হচ্ছেন তারা।

দেশটির রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল হুতি বিদ্রো’হীদের দ’খলে। সেখানেই চলছে এসব নির্যা’তন। মানবধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা জানান, দীর্ঘ পাঁচবছরের এ যু’দ্ধে ক্রমেই নৃশং’সতা বেড়েছে নারীদের ওপর। এর মধ্যে মেয়েরাই বেশি ঝুঁ’কিতে।

ইয়েমেনের মানবাধিকার কর্মী এবং পিচ ট্র্যাক ইনেশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা রাশা জারহুম বলেন, ”ইয়েমেনের নারীদের জীবনে ঘটতে থাকা অত্যন্ত কুৎ’সিত ও অন্ধকার দিক এটি। যুদ্ধ শুরুর আগে নারীদের রক্ষায় দেশটিতে কোন আইন বা প্রতিষ্ঠান ছিল না। নৈতিক ও গোত্রীয় কিছু নীতির মাধ্যমে নারীরা সুরক্ষা পেত।। কিন্তু যুদ্ধের ভ’য়াবহতা যতো বেড়েছে সে সব নিয়ম নীতি ভেঙ্গে পড়েছে।”

বছরের শুরুতে জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ দল তদ’ন্তে খুঁ’জে পায়, যে সব নারী হুতি বিদ্রো’হীদের বিরো’ধিতা করছে তারাই নি’র্যাতনের শি’কার হচ্ছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে হুতিরা সানায় অপরা’ধ তদ’ন্ত বিভাগের প্রধান হিসেবে সুলতান জাবিন নামে এক লোককে নিয়োগ দেয়ার পর থেকেই গণগ্রেফতার ও নির্যাতনের মাত্রা ব্যা’পকভাবে বেড়ে যায়। নারী নির্যা’তন এখন যুদ্ধপা’রাধের পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।

হুতিরা নারী যো’দ্ধাদের নিয়ে ‘জায়নাবিয়াত’ নামে একটি দল গঠন করেছে। তাদের কাজ হচ্ছে যে সব নারী হুতিদের বিরো’ধিতা করবে তাদের উপর ঝাপিয়ে পড়া। রাশা জারহুম বলেন, ”ইয়েমেনের ইতিহাসে এমন ন্যা’ক্কারজনক পরি’স্থিতি আমরা এই প্রথম দেখছি।” সামেরা আল-হুরির অভিজ্ঞতা ছিল এমন-রাজধানী সানায় একদিন কয়েকজন হুতি কর্মকর্তা হঠাৎ করেই আল-হুরিদের বাড়িতে হা’না দেয় এবং তাকে ধ’রে নিয়ে যায়।

তারা সামেরাকে একটি স্কুলের বেজমেন্টে নিয়ে যায়। সেখানে আরও কয়েকজন নারীকে আগে থেকেই ব’ন্দি করে রাখা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময়ে তাকে পি’টিয়ে রক্তা’ক্ত করে ফেলা হতো, দেয়া হতো ইলেক্ট্রিক শক। চলতো আরো নানা শারীরিক নির্যা’তন। তাকে মৃত্যুদ’ণ্ডও দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। একেবারে শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়। ৩৩ বছর বয়সী সামেরা আল-হুরিকে তিন মাস হুতি বিদ্রো’হীরা ব’ন্দি করে রাখে।

পরে ক্যামেরার সামনে তাকে পতিতাবৃত্তিতে জড়িত থাকার স্বিকারো’ক্তি দিতে বাধ্য করা হয়। ইয়েমেনে পতিতাবৃত্তি আইনের চোখে অ’পরা’ধ। সংবাদ সংস্থা এপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সামেরা আল-হুরি নিজের ওই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। জানান, রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা তাইজ স্ট্রিটে বিভিন্ন বাড়ি ও স্কুলে নারীদের ব’ন্দি করে রাখার গো’পন সেলগুলোর কথা। যেখানে কয়েকশ নারী আছে।

তিনি বলেন, ”নানা শারীরিক নির্যা’তনের পাশপাশি নারীদের ধ’র্ষ’ণও করা হয়। সেখানে অনেকের অভিজ্ঞতা আমার চেয়েও খা’রাপ। ব’ন্দি নারীদের মধ্যে স্কুলের শিক্ষক, মানবাধিকার কর্মী, এমনকি কিশোরীরাও ছিল। হুতি বাহিনী আমার মাথা এমনভাবে টেবিলে ঠুকে দিতো যে, মুক্তির পর আমার চোখে অ’স্ত্রোপ’চার করাতে হয়েছে।”

২০১৯ সালের জুলাই মাসে কালাশনিকভ হাতে একদল মুখোশ পরা কর্মকর্তা সামেরাকে তুলে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ”তাদের আয়োজন দেখে মনে হচ্ছিল আমি ওসামা বিন লাদেন। আমার অ’পরা’ধ, আমি তাদেরকে আমার সহযো’দ্ধা মানবাধিকার কর্মীদের বিরু’দ্ধে তথ্য দেওয়ার এবং গোয়ে’ন্দাগিরি করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।”

সানার অপরা’ধ তদ’ন্ত বিভাগের প্রধান সুলতান জাবিন তাদের জিজ্ঞাসাবা’দ করতেন জানিয়ে সামেরা আল-হুরি আরও বলেন, ”জাবিন দেখতে সুন্দর মেয়েদের স্কুলের বাইরে নিয়ে গিয়ে ধ’র্ষ’ণ করতেন। সেখানে মেয়েদের ধ’র্ষ’ণ করা হতো।” জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ দলটিও জাবিনের গোপন একটি ব’ন্দিশালা থেকে দৌড়ে বের হওয়ার প্রমাণ পেয়েছেন৷ সেখানে মেয়েদের ধ’র্ষণ করা হতো।

উইমেন ফর পিস ইন ইয়েমেন কোয়ালিশন- এর প্রধান নূরা আল-জারউই বলেন, রাজধানীর দক্ষিণে ধামার প্রদেশে আরেও শতাধিক নারীকে ব’ন্দি করা হয়েছে। হুতি ব’ন্দিশালা থেকে মুক্তি পাওয়া নারীদের জন্য মিশরের কায়রোতে একটি আন্তর্জাতিক সাপোর্ট গ্রুপ পরিচালনা করেন আল-জারউই৷ তিনি ৩৩ জন নারীর কথা জানান, যারা হুতি বন্দিশালায় ধ’র্ষণের শি’কার হয়েছেন। তাদের মধ্যে আটজন প্রচ’ণ্ড নির্যা’তনে প্রায় ম’রতে বসেছিলেন।

পাঁচ বছর ধ’রে চলা গৃহযু’দ্ধে ইয়েমেনের অনেক পুরুষ হয় মা’রা গেছেন বা জেলে রয়েছেন৷ ফলে র’ক্ষণশী’লতা ভেঙে নারীরা এখন রাজনীতিতে আসতে শুরু করেছেন। তবে হুতি সরকারের মানবাধিকারমন্ত্রী রাদিয়া আব্দুল্লাহ সব অভিযো’গ অস্বী’কার করেছেন।

তিনি বলেন, ”যদি এসব অভিযো’গ সত্য হয় তবে আমরা এ সম’স্যার সমাধান করবো।” হুতি মন্ত্রিসভার দুই নারী মন্ত্রীর একজন তিনি। তিনি বলেন, ”পতিতাবৃ’ত্তি দ’মন অভি’যানে কয়েকটি ক্যাফে, অ্যাপার্টমেন্ট এবং নারীদের সমাবেশ থেকে কয়েকজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বলেন, ”‌‌তারা সমাজকে অ’পরা’ধগ্র’স্ত করেছে এবং শ’ত্রুপক্ষের হয়ে কাজ করছে।”

২০১৭ সালের শেষ দিকে হুতিরা তাদের এক সময়ের মিত্র সাবেক শাসক আলি আব্দুল্লাহ সালেহকে হ’ত্যা করে। সালেহর মৃ’তদেহ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে ওই সময় নারীরা কয়েকটি জায়গায় বিক্ষো’ভ সমাবেশ করেছিল। তারপর থেকেই মূলত নারীদের বিরু’দ্ধে বড় ধরনের দ’মন অভিযান শুরু হয়। সূত্র: এপি।

Related posts

বাচ্চাকে নুডলস খাওয়াচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন মারাত্মক বিপদ

গাছের ফল ও ছাগলের করোনা টেস্টের রিপোর্টও পজিটিভ!

তৈরি হল করোনাকে হা’রাতে পারে এমন ‘অ্যান্টিবডি’!