14.6 C
New York
May 25, 2020
বাংলাদেশ

করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ২২ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

করোনা বিস্তার প্রতিরোধের প্রস্তুতি এবং কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের চলমান প্রচেষ্টার সম্পূরক সহায়তা হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর মাধ্যমে ২২ মিলিয়ন (২ কোটি ২০ লাখ) ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে।

এই তহবিল বিগত ২০ বছরে বা্ংলাদেশে ১ বিলিয়ন ডলারের অধিক স্বাস্থ্য সহায়তার ধারাবাহিকতা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য মানসম্পন্ন জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।

কোভিড-১৯’এর প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সারা বিশ্বে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা খাতে এবং মানবিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহায়তা হিসাবে বিশেষত সরকার, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারী সংস্থাহগুলোকে এই মহামারি মোকাবেলায় ৯০০ মিলিয়ন ডলারের অধিক অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই তহবিলের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সুবিধাদির সুরক্ষা, পরীক্ষাগার বৃদ্ধি, রোগ পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত সাড়া প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ১২০টি দেশে মানুষের জীবন বাঁচবে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মোকাবেলার প্রস্তুতি ও কার্যক্রম বাস্তবায়নে যেসব ক্ষেত্রে সহায়তা দিচ্ছে সেগুলো হলো: রোগনির্ণয় ও পরীক্ষাগারের সক্ষমতা জোরদার করা; আক্রান্তের ব্যবস্থাপনা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ চর্চা উন্নতকরণ; সরবরাহ ব্যবস্থা ও দ্রব্যসামগ্রী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উন্নত করা এবং জ্ঞান বাড়ানো এবং গুজব ও ভুল ধারণা দূর করতে ঝুঁকি বিষয়ক তথ্য যোগাযোগ বার্তা প্রচার জোরদার করা।

মার্কিন সহায়তায় বাংলাদেশের চিকিৎসকদের এক প্রশিক্ষণের এক আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে বৃহস্পতিবার। এতে বলা হয়েছে- ইউএসএআইডি, বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃক যৌথভাবে বাংলাদেশি ডাক্তারদের জন্য কোভিড-১৯ বিষয়ে অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স প্রণয়ণের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অর্থায়ন ও সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত সাম্প্রতিক অনেক উদ্যোগের অন্যতম উদাহরণ। এ কোর্সটির মাধ্যমে চিকিৎসকরা করোনা বিষয়ক বিভিন্ন জরুরি তথ্য পাবেন। তারা যেসব বিষয়ে তথ্য পাবেন তার অন্যতম হচ্ছে- স্বাস্থ্য পেশাজীবী হিসাবে নিজের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করার পন্থা।

সরকারের ই-লার্নিং কার্যক্রম মুক্তপাঠের মাধ্যমে বাংলাদেশের যে কোন জায়গা থেকে ডাক্তাররা বিনামূল্যে এই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন।

এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়-এর সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রাম এবং অনলাইন কার্যক্রমের ব্যবস্থাপনা করছে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিয়োজিত বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাভুক্ত ও ক্যাবিনেট বিভাগ সমর্থনপুষ্ট অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)।

ওই প্রশিক্ষণের অনলাইন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলার বলেন, ‘রমজান আমাদের এই সংকট মোকাবেলায় নিয়োজিত সামনের কাতারের কর্মীদের সম্পর্কে ভাবা এবং তাদের ধন্যবাদ জানানোর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তারা প্রতিদিন অসাধারণ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, পুলিশ, মুদি, ওষুধের দোকান এবং অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লোকজন। আমরা যেন নিজের এবং পরিবারের সবার ভালো থাকার জন্য যা যা দরকার তা পাই, সেটি নিশ্চিতে কাজ করছেন তারা। আমি এর মধ্যে সাংবাদিকদেরও যোগ করবো। বিশেষ করে সঙ্কটের সময়ে যে কোনও প্রাণবন্ত গণতন্ত্রের যা প্রয়োজন আপনারা তার যোগান দিয়ে যাচ্ছেন। আর সেটি হচ্ছে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য, প্রকৃত ঘটনা এবং সত্য। সাংবাদিক, আলোকচিত্র সাংবাদিক এবং মিডিয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজটি পালন করার সময় অনেক সময় ত্যাগ স্বীকারের ব্যাপার থাকে, যেমনটি বাংলাদেশেও ঘটে। আপনারা সবাই প্রকৃত নায়ক এবং আমাদের অন্তরস্থ কৃতজ্ঞতা প্রাপ্তির দাবিদার।’

বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মোকাবেলার প্রস্তুতি ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুদান প্রদানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বে অন্যতম প্রথম।

রাষ্ট্রদূত মিলার আরও বলেন, ‘আজ যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইউএসএআইডি-র মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে সারাদেশের চিকিৎসকদের জন্য কোভিড-১৯ বিষয়ক একটি অনলাইন কোর্স চালু করছে। এই কোর্সটি করোনা রোগীদের চিকিৎসা করার সময় যেসব সতর্কতার বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন সে সম্পর্কে জানতে চিকিৎসকদের সহায়তা করবে। কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আমাদের সহায়তার মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল মানুষের জন্য মানসম্পন্ন জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ নিশ্চিত করতে আমাদের দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।’

অন্যদিকে কারিগরী কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দানের মাধ্যমে দেশের পরীক্ষাগারগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএসএআইডি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাথে কাজ করছে।

করোনা আক্রান্তদের সনাক্তকরণ, রোগের আরো বিস্তার রোধে আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তগ্রহণ জোরদার করতে সতর্ক পর্যবেক্ষণ পরিচালনার জন্য ইউএসএআইডি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)-এর সাথে কাজ করছে।

তাছাড়া, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে জাতীয় নির্দেশিকা প্রণয়ন এবং কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের বিভিন্ন প্রেক্ষিত বিষয়ে ১,৯০০ স্বাস্থ্য পেশাজীবীকে প্রশিক্ষণ দানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সহায়তা দিচ্ছে। প্রশিক্ষণার্থীরা কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা সদরসহ সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য নিযুক্তদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই রোগ প্রতিরোধে নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্যসামগ্রী ব্যবস্থাপনার জন্য ইলেকট্রনিক উপায়ে দ্রব্যসামগ্রী ব্যবস্থাপনা তথ্য পদ্ধতি (এলএমআইএস) প্রণয়নেও ইউএসএআইডি বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা দিয়েছে।

বিগত ৫০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) গবেষণা থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের কারিগরি এবং বৈজ্ঞানিক সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। ১৯৯৯ সাল থেকে সিডিসি বাংলাদেশ সরকারের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রণয়ন এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশে একজন মেডিকেল রোগতত্ত্ববিদ নিযুক্ত করার মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আইসিডিডিআরবিকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় পর্যায়ক্রমে একজন করে রোগতত্ত্ববিদ নিয়োগ এবং পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র যুক্ত করার লক্ষ্যে একটি প্রস্তাবনা প্রণয়নেও সিডিসি বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা দিচ্ছে।

কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র জনস্বাস্থ্য বিষয়ে বিশ্বের সর্ববৃহৎ দ্বিপাক্ষিক সহায়তা প্রদানকারী রাষ্ট্র। ২০০৯ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সহায়তার ক্ষেত্রে আমেরিকার করদাতা জনগণ উদারভাবে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং মানবিক সহায়তা হিসাবে প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডলার প্রদান করেছে। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বহুপাক্ষিক সহযোগী সংস্থাকে উদারভাবে সহায়তা দিয়েছে। যাদের মধ্যে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইইএনএইচসিআর)-কে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলার সহায়তা দিয়েছে। এখন এ সময়ে এই সহায়তা আরো জরুরি হবে কেননা শরণার্থী জনগোষ্ঠী কোভিড-১৯ মহামারীর ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।

এছাড়া ২০১৯ সালে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)-কে ৭০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সহায়তা প্রদান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বহু বছর ধরে ইউনিসেফ কর্তৃক বাস্তবায়িত জীবন রক্ষাকারী কার্যক্রম যেমন টিকাদান কর্মসূচি এবং স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও সহায়তার মাধ্যমে কোভিড-১৯ মোকাবেলার পাশাপাশি মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করছি।

মহামারি মোকাবেলায় মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশের খাদ্য সরবরাহ বা খাদ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কাস্টমস, খাদ্য পরিদর্শন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্মরত সম্মুখসারির পুলিশ ও জরুরি সেবা প্রদানকারীদেরসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যক কারিগরী সহায়তা প্রদান করছে।

সূত্র: ভয়েস অব আমেরিকা

Related posts

মিরসরাইয়ে সরকারি চালসহ দুইজন আটক

দিনাজপুরের ১৩ উপজেলাতেই করোনা শনাক্ত

কুমিল্লায় করোনাভাইরাসে ব্যবসায়ীর মৃত্যু