19.7 C
New York
May 24, 2020
করোনা

যেকারণে করোনায় কৃষ্ণাঙ্গ ও এশিয়ানদের মৃত্যুর হার বেশি

করোনায় শ্বেতাঙ্গদের তুলনায় কৃষ্ণাঙ্গদের মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ। এরপরই আছে এশিয়া মহাদেশের মানুষ। সম্প্রতি ব্রিটেনের জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরের নতুন রিপোর্টে এমনটাই তথ্য উঠে এসেছে।

একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বয়স, এলাকায়ভিত্তিক  অবস্থান, সুযোগের অভাব এবং আগে থেকে থাকা স্বাস্থ্যগত সমস্যা এসব আমলে নিয়েই রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে। পরিসংখ্যান দফতরের রিপোর্টটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সামাজিক বৈষম্যই সম্ভবত এর জন্য দায়ী।

পরিসংখ্যান দফতরের মতে, এইসব সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠির লোক এমন পেশায় কাজ করেন যেখানে মানুষের সংস্পর্শে তাদের বেশি আসতে হয়, ফলে কাজ থেকে তাদের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলেই ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের পেশা ও ঝুঁকির সঙ্গে তার যোগসূত্র নিয়ে তাদের আরো গবেষণার পরিকল্পনা রয়েছে।

হেলথ ফাউন্ডেশন নামে একটি গবেষণা সংস্থা বলছে লন্ডনে মোট কর্মী জনগোষ্ঠির ৩৪% কৃষ্ণাঙ্গ এবং এশিয়ান। লন্ডনে কৃষ্ণাঙ্গ ও এশিয়ানরা খাদ্যশিল্পে কাজ করে ৫৪%, স্বাস্থ্য ও কেয়ার খাতে ৪৮% এবং পরিবহনে ৪৪%।

ব্রিটেনে করোনার প্রাদুর্ভাবের শিকার হয়ে যারা মারা গেছে তাদের বেশিরভাগই লন্ডনের বাসিন্দা। আর লন্ডনের জনসংখ্যার ৪০% সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ।

ব্রিটেনের জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর (ওএনএস) এবং গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট অফ ফিসকাল স্টাডিস (আইএফএস) দুটি প্রতিষ্ঠানই তাদের আলাদা আলাদা গবেষণায় দেখেছে এই ভাইরাসের প্রকোপ আনুপাতিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পড়েছে সংখ্যালঘু বংশোদ্ভুতদের ওপরে। তবে আইএফএস গবেষকরা বলছেন এখানে ভৌগলিক অবস্থানের উল্টোদিকে রয়েছে বয়সের বিষয়টা।

সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠির মানুষদের বেশিরভাগেরই বয়স শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের থেকে কম। আক্রান্ত হবার ঝুঁকি বয়সের বিবেচনায় তাদের তুলনামূলকভাবে কম। অর্থাৎ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে মৃত্যুর সংখ্যা সার্বিকভাবে বেশি, কারণ মোট জনসংখ্যায় বয়স্ক মানুষ শ্বেতাঙ্গ সম্প্রদায়ের মধ্যেই বেশি এবং আক্রান্তের একটা বড় অংশ বৃদ্ধ জনগোষ্ঠী।

ওএনএস অবশ্য তাদের গবেষণায় অন্য কিছু বিষয় নিয়ে এসেছে, যেমনটা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, যেমন স্বাস্থ্য, পেশা ও সুযোগ সুবিধার অভাবের বিষয়গুলো। সাম্প্রতিক জরিপে যদিও এই জনগোষ্ঠীর বর্তমান স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে আলাদাভাবে সমীক্ষা চালানো হয়নি, কিন্তু এই সংখ্যালঘুদের সুনির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে অতীতের গবেষণায় দেখা গেছে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে স্থূলতা একটা বড় সমস্যা। আর কৃষ্ণাঙ্গ এবং এশিয়ানদের মধ্যে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের সমস্যা খুবই বেশি।

এছাড়াও সাধারণভাবে অর্থাভাব ও সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ওপর এই করোনাভাইরাসের ধাক্কা বেশি মাত্রায় দেখা গেছে। এমনকি আক্রান্ত শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের মধ্যেও বেশিরভাগই মারা গেছে দরিদ্র মানুষ।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় এক তৃতীয়াংশ বাংলাদেশি পরিবারে অনেক সদস্য একসঙ্গে একই বাড়িতে থাকেন। কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকানদের মধ্যে এই হার ১৫%। সেখানে শ্বেতাঙ্গ পরিবারগুলোতে এই হার মাত্র ২%।

ওএনএস বলছে এর ফলে তাদের পক্ষে আইসোলেশনে থাকার ব্যাপারটা সবক্ষেত্রে ফলদায়ক হচ্ছে না।

Related posts

করোনা আ’ক্রান্তের সংখ্যায় চীনকে ছাপিয়ে গেল ভারত

ভারতে লকডাউন চলাকালীন মাইকে আজান দেওয়া যাবে না : এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ১২৭৩ জন করোনায় আক্রা’ন্ত, মৃ’ত্যু ১৪ জন