32 C
Bangladesh
May 21, 2022
খেলাধুলা

ঈদের উপহার নিয়ে রুবেলের বাসায় গেলেন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।

গত ১৯ এপ্রিল না ফেরার দেশে পাড়ি জমান জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মোশাররফ হোসেন রুবেল। মৃত্যুর পর মিরপুর স্টেডিয়ামে জানাজা শেষে রুবেলকে দাফন করা হয় বনানী কবরস্থানে।

গত ২২ এপ্রিল রুবেলের স্ত্রী চৈতি ফারহানা রূপা স্বামীর কবর জিয়ারত করতে এসে কবর স্থায়ীকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও মেয়রের কাছে আকুল আবেদন জানান। মানবিক দিক বিবেচনায় ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম রুবেলের কবর স্থায়ী করার সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় মেয়র আতিক ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। দেশে ফিরে শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) বেশ কিছু উপহার নিয়ে রুবেলের বাসায় ছুটে যান তিনি।

এসময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রুবেলের ছেলে রুশদান রুবেলের শূন্যস্থান পূরণ করে এই জাতির জন্য অবদান রাখবে বলে আমি আশা করি। আমি এই পরিবারের একজন সদস্যের মতো। অভিভাবক হিসেবে সবসময় পাশে থাকবো। সিটি করপোরেশন এই পরিবারের যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা করবে।

মেয়র আরো বলেন, রুবেল বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি খেলাধুলার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। রুবেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্লু এবং গোল্ড মেডেল অর্জনসহ অনেক পুরস্কার অর্জন করেছেন। সর্বোপরি রুবেল একজন নম্র-ভদ্র ও ভালো মানুষ ছিলেন। তার মৃত্যুতে আমরা বাংলাদেশের একটি সম্পদ হারিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ওমরা পালনের সময় মক্কায় অবস্থানকালীন রুবেলের মৃত্যু সংবাদ পেয়েছি। পরিবারের চাওয়ায় বনানী কবরস্থানে রুবেলের মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দিয়েছি। রুবেলের কবরটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের জন্য তার স্ত্রীর আকুতি জানার সাথে সাথেই ব্যবস্থা নেওয়ারে নির্দেশনা দিয়েছি। আজ সরাসরি সাক্ষাৎ করে জানাতে এসেছি রুবেলের কবরটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণে দ্রুত সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঈদের পর বোর্ড সভায় কবরটি স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের বিষয়টি অনুমোদন করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হবে বলে জানান মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

এ সময় অশ্রুসিক্ত চোখে রুবেলপত্নী রূপা বলেন, ‘মাননীয় মেয়রের কাছে আমি অসম্ভবরকমের কৃতজ্ঞ। রুবেল মারা যাওয়ার পর আসলে আমার একটাই চাওয়া ছিল। আমার আর কোনো চাওয়া নেই। রুবেলকে যেন আমরা দেখতে পারি। তার শরীরটা তো ঐখানেই আছে। আমরা পুরো পরিবার মেয়রের কাছে কৃতজ্ঞ। অনেক ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

একইসাথে গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চৈতি আরও বলেন, ‘মেয়র বলেছেন পারিবারিক অভিভাবক হিসেবে উনি থাকবেন সবসময়। আমরা হয়ত বিসিবিকেও পাশে পাব। আর কোনো চাওয়া নেই আসলে আমার। সবার কাছেই আমি কৃতজ্ঞ। গণমাধ্যম খবরটা মেয়রের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, নাহলে এটা হত না। আপনাদের কাছেও কৃতজ্ঞ।’

উল্লেখ্য, বনানী কবরস্থানে কাউকে দাফন করার ২ বছর পর সেখানে নতুন করে কাউকে দাফন করার রীতি রয়েছে। তবে আছে কবর স্থায়ী করার পদ্ধতি, সেক্ষেত্রে প্রায় কোটি টাকার মত খরচ হয়। রুবেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার পরিবারের স্বভাবতই সেই সাধ্য নেই।

আরো পড়ুন

টেস্টে বোল্টের ‘ট্রিপল সেঞ্চুরি’

Shohag

দুই কোটি রুপিতে মোস্তাফিজকে কিনল দিল্লি।

Shohag

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে ব্যাট হাতে বিরল রেকর্ড গড়লেন সৌম্য, মিঠুন, মোসাদ্দেকরা

Shohag