22 C
Bangladesh
December 5, 2022
খেলাধুলা

আফিফ হোসেন এবং মেহেদী হাসান মিরাজের রেকর্ড ১৭৪ রানের পার্টনারশিপে সুপার লিগে পূর্ণ ১০ পয়েন্ট পেল বাংলাদেশ।

দীর্ঘ সাত মাস পর ওয়ানডে ক্রিকেটের নেমে বড় বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিল টাইগাররা। আফগানিস্তানের দেওয়া ২১৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ৪৫ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে চোখে সর্ষেফুল দেখতে থাকে বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তুলে ৪ উইকেটে জয় এনে দিয়েছেন আফিফ হোসেন এবং মেহেদী হাসান মিরাজ।

এই জয়ের ফলে আইসিসি সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলে পূর্ণ ১০ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ। যার সুবাদে ১৩ ম্যাচে ৯০ পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ৯৫ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে রয়েছে ইংল্যান্ড। এছাড়াও আইসিসি সুপার লিগে প্রথম পরাজয় আফগানিস্তানের।

চট্টগ্রামর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে লো-স্কোরিং ম্যাচে রান তাড়া করতে নেমে আফগান বোলার ফজলে হক ফারুকীর বোলিং তোপে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর ফেরেন দলের আরও দুই ব্যাটার। সে সময় দলীয় স্কোর ছিল মাত্র ৪৫ রান। আর বাংলাদেশ হারিয়েছিল ছয় উইকেট

লিটন দাস ১ রানে, তামিম ইকবাল ৮ রানে, মুশফিকুর রহিম ৩ রানে এবং শূন্যরানে ইয়াসির রাব্বি, ১০ রানে সাকিব এবং ৮ রানে আউট হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

এ সময় মনে হচ্ছিলো লজ্জার ইনিংসের রেকর্ড গড়তেই যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু সপ্তম উইকেট জুটিতে আফগান বোলারদের বুড়ো আঙুল দেখাতে থাকেন আফিফ হোসেন এবং মেহেদি হাসান মিরাজ। দেখে-শোনে খেলতে খেলতে এক সময় দলকে জয়ের স্বপ্নই দেখান তারা। আর শেষ পর্যন্ত স্বপ্নকেও পরিণত করেন সত্যিতে।

সপ্তম উইকেটে দুজন মিলে ১৭০ রানে অপ্রতিরোধ্য জুটি গড়েন। যা বাংলাদেশের হয়ে সপ্তম উইকেট জুটিতে রেকর্ড। এর আগে ১২৭ রান করেছিলেন ইমরুল কায়েস এবং সাইফউদ্দিন। এছাড়া ক্রিকেটবিশ্বে সপ্তম উইকেটে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। ২০১৫ সালে জস বাটলার এবং আদিল রশিদ মিলে তুলেছিলেন ১৭৭ রান।

আফিফ এবং মিরাজ দুজনই অর্ধশতকের দেখা পেয়েছেন। আফিফ হোসেন ৯৩ রান করে অপরাজিত থাকেন। ১১৫ বলে খেলা এই শৈল্পিক ইনিংসটি ১১টি চার এবং একটি ছয়ে সাজানো। এদিকে ৮১ রান করে অপরাজিত থাকেন মিরাজ।

এর আগে ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় ওভারেই মোস্তাফিজুর রহমানের বলে ৭ রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ। এরপর ১৯ রানে ইব্রাহিম জাদরান এবং ৩৪ রানে ফেরেন রহমত শাহ। আর মোহাম্মদউল্লাহর বলে সাজঘরে ফেরার আগে ২৮ রান তুলেন দলনেতা শহিদী।

একশর মধ্যেই চার উইকেট হারিয়ে খানিকটা চাপেই পড়ে আফগানরা। এরপর পঞ্চম উইকেট জুটিতে মোহাম্মদ নবি এবং নাজিবুল্লাহ জাদরানের ৬৩ রানে জুটিতে চাপ সামলে কিছুটা বাড়ে দলীয় স্কোর। ২০ রানে আউট হন নবি।

এছাড়া ১৭ রানে গুলবাদিন নায়েব, শূন্যরানে রশিদ খান, ৫ রানে আহমেদজাই এবং শূন্যরানে মুজিব উর রহমান সাজঘরে ফেরেন। এদিকে দলকে একাই টানতে থাকা নাজিবুল্লাহ জাদরান ফিফটি পূর্ণ করার পর আউট হন ব্যক্তিগত ৬৭ রানে। আর শূন্যরানে অপরাজিত থাকেন ফজলেহক ফারুকি।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন তিনজন বোলার।
বাংলাদেশের বোলারদের পারফরম্যান্স
তাসকিন আহমেদ ১০-০-৫৫-২
সাকিব আল হাসান ৯-১-৫০-২
মেহেদী হাসান মিরাজ ১০-৩-২৮-০
মুস্তাফিজুর রহমান ৯.১-০-৩৫-৩
শরিফুল ইসলাম ১০-১-৩৭-২
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১-০-৪-১

বাংলাদেশ একাদশ : তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, ইয়াসির আলী, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, শরিফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

আফগানিস্তান একাদশ : রহমানুল্লাহ গুরবাজ, ইবরাহীম জাদরান, রহমত শাহ, হাসমতুল্লাহ শাহিদি, নাজিবুল্লাহ জাদরান, গুলবাদিন নাইব, মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান, মুজিব উর রহমান, ইয়ামিন আহমদজাই ও ফজল হক ফারুকি।

আরো পড়ুন

একদিন সুপারস্টার ক্রিকেটার হবে মাহমুদুল হাসান জয় : মোমিনুল হক

Shohag

নিউজিল্যান্ড বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ৭০ রানের মধ্যে ৫ উইকেটে তুলে নিয়েছেন রাহি এবং তাসকিন

Shohag

আমাদের সবচেয়ে বড় উদাহরণ মাশরাফি ভাই, তিনিও অনেক ইনজুরির সঙ্গে লড়াই করে খেলেছেন : তাসকিন

Shohag